×
Logo

আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পরমাণু স্থাপনায় পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি ইরান: আরাঘচি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পরমাণু স্থাপনায় পরিদর্শনের সুযোগ দিতে রাজি ইরান: আরাঘচি

নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা হলে ইরানের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহাল করতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন কূটনীতিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ।

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকদের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠকে আরাঘচি এ প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে, ইরানের ওপর জাতিসংঘের পুনরায় ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও রাজি করানোর চেষ্টা করেন তিনি।

তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া গত সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ‘স্ন্যাপব্যাক’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেহরানের ওপর জাতিসংঘের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।

আরাঘচি সরাসরি ইরানের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

এর আগে, গত সপ্তাহে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে আলোচনায় আরাঘচি এর আগে এমন সম্ভাবনার কথা তোলেননি বলে জানা গেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ায় ইরানে মূল্যস্ফীতি এখন  প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সময় তিনি ইরানের মুদ্রা ‘মূল্যহীন’ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধের কারণে গত মাসে ইরান কোনো অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে তুলতে পারেনি। ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কার্যক্রমও বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

এদিকে রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা পুনরায় শুরুর বিনিময়ে তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন আলোচনায় যুক্ত মধ্যস্থতাকারী ও কর্মকর্তারা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ইসরায়েল যেন ইরানের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে তেহরানকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন অবরোধ কিংবা নতুন করে বোমা হামলা শুরু হলেও তা মোকাবিলা করতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী ইরান।

তবে আরব দেশগুলোর কর্মকর্তারা এবং মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয়নি।

তাদের ভাষ্য, নতুন করে আলোচনা শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু ছাড় চায় তেহরান।

/এআই 

Logo