×
Logo

আন্তর্জাতিক

চীনের সামরিক চাপ মোকাবেলায় তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে এফ-১৬ভি'র নতুন চালান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

চীনের সামরিক চাপ মোকাবেলায় তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে এফ-১৬ভি'র নতুন চালান

চীনের অব্যাহত সামরিক চাপ ও আগ্রাসনের মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে যাচ্ছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অর্ডার করা ৬৬টি অত্যাধুনিক ‘এফ-১৬ভি’ (F-16V) যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান হিসেবে দুটি বিমান আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাইওয়ানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফটওয়্যার জটিলতাসহ নানা কারণে কয়েক দফা বিলম্বের পর বহুল প্রতীক্ষিত এই যুদ্ধবিমান দুটি হাতে পেতে যাচ্ছে তাইপে। খবর রয়টার্সের। 

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে বেইজিং। তাইওয়ানের চারপাশে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌবহরের নিয়মিত টহলের কারণে দেশটিকে সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বঘোষিত দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মিত্র ও মূল অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

তাইওয়ানের পার্বত্য পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে নতুন যুদ্ধবিমান দুটি অবতরণের কথা রয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ওয়াশিংটনের অস্ত্র সরবরাহ প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাইপের ভেতর কিছুটা রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো বদল আসেনি।

তাইপের পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, শিগগিরই ধারাবাহিকভাবে আরও নতুন এফ-১৬ভি বিমান বহরে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বছরের শেষ নাগাদ সরবরাহ কেবল এই দুটি যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

২০১৯ সালে তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের তৈরি ৬৬টি এফ-১৬ভি বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। পুরো চালান হস্তান্তর সম্পন্ন হলে তাইওয়ানের হাতে এফ-১৬ সিরিজের বিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে ২০২৩ সালে নিজেদের পুরনো এফ-১৬ বহরের আধুনিকায়ন সফলভাবে শেষ করে তাইপে।

কৌশলগতভাবে এই সরবরাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বেইজিং বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে হওয়া বৈঠকের সপ্তাহখানেকের মধ্যেই যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে। উন্নত এভিওনিকস, শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার ও দূরপাল্লার রাডার সমৃদ্ধ এই এফ-১৬ভি চীনের স্টেলথ প্রযুক্তির ‘জে-২০’ ফাইটারের মোকাবেলায় তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ভারসাম্য আনবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও অভ্যন্তরীণ আইনের বাধ্যবাধকতায় তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও অভিন্ন মূল্যবোধ বজায় রাখতে তারা তাইওয়ানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের পাশে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

/এনএ 

Logo