×
Logo

আন্তর্জাতিক

রয়টার্সের প্রতিবেদন

নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেন রাজা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেন রাজা

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।

গত ২৩ সেপ্টেম্বরের, পার্লামেন্ট নির্বাচনে, এল মানসুরির দল, লিবারেল-সেন্ট্রিস্ট অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন সরকারে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০৮ সালে, রাজার একজন উপদেষ্টার উদ্যোগে গঠিত হয় পিএএম। দলটি সামাজিক আধুনিকায়ন এবং তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসলামপন্থি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (পিজেডি) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে রাজার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দলের নেতাকেই সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা।

নির্বাচনের আগে, ক্ষমতাসীন জোটে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ছিল পিএএম। এবার দলটি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে, মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান এবং দুইবার সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ফৌজি লেকজা পিএএমে যোগ দেওয়ায় দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।

পেশায় আইনজীবী এল মানসুরি বিদায়ী সরকারের আবাসনমন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি, তিনি মারাকেশ শহরের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন তাকে জোট সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা রাজার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন তিনি।

নতুন সরকারকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশটি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত ও অন্যান্য প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক নীতিতেও গুরুত্ব দিতে হবে নতুন সরকারকে। গত জুলাইয়ে, স্পেনের ছিটমহল সেউতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা এবং গত বছর জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে তরুণদের ক্ষোভের বিষয়টি সামনে এসেছিল।

নির্বাচনী প্রচারের সময় পিএএম জানিয়েছিল, বিদায়ী জোটের আরেক শরিক ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে তারা নতুন করে জোটে থাকতে চায় 'না'। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দুই দলের মধ্যে পরস্পরকে দায়ী করার ঘটনাও ঘটেছিল।

তবে বৃহস্পতিবার এল মানসুরি জানান, সরকার গঠনের আলোচনায় কোনো ‘লাল দাগ’ থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি।’

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিজেডির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে জানিয়েছেন, তার দল বিরোধী দলে থাকবে।

নির্বাচনে পিএএম ৯৭টি আসন পেয়েছে। বিদায়ী সরকারের শরিক আরএনআই পেয়েছে ৬৬টি এবং রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী দল ইস্তিকলাল পেয়েছে ৬৫টি আসন। পিজেডি পেয়েছে ৫৪টি আসন। এছাড়া তিনটি বামপন্থি দল তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক আসন পেয়েছে।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও বিশেষভাবে নজরে ছিল। নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার একটি সূচক হিসেবে দেখা ভোটার উপস্থিতি এবার কমে প্রায় ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে এই হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। ওই নির্বাচনে এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছিল মধ্যপন্থি ইসলামপন্থি পিজেডি।

এর আগে, মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ নারী উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী সরকারে চারজন নারী মন্ত্রী ছিলেন। তবে এল মানসুরির নিয়োগের মধ্য দিয়ে এই প্রথম দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন কোনো নারী।

/এআই 

Logo