×
Logo

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে: খামেনি জুনিয়র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে: খামেনি জুনিয়র

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আঘা’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল থেকে বিদায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি। 

একইসঙ্গে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে কোনো সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, শুরু হওয়া, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি খামেনিকে। এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার উদ্যোগ চললেও সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, 'ইরানের সাহসী যোদ্ধা ও হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের হাতে ব্যথাদায়ক আঘাত পাওয়ার পর শত্রুরা এখন আর আরব সাগরের বাইরে যাওয়ার সাহস করে না।'

যদিও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি। তবে খামেনি বলেন, '‘যখনই তারা এই ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখনই নিজেদের ক্ষতির মুখে পড়েছে। খুব শিগগিরই আরব সাগর থেকেও তাদের উপস্থিতি মুছে যাবে।'

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দেশটির ‘শত্রু’ ইসলামি ব্যবস্থার সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, 'কিন্তু আজ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ নিজেদের ন্যায্য অবস্থান রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংকল্পও রয়েছে।'

খামেনি আরও বলেন, গত সাত মাস ধরে, ইরানের মানুষ, ইসলাম রক্ষার লড়াইয়ে শত্রুদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।

প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাতে ইরনা জানায়, 'নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধি দলের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।'

সূত্রটি আরও জানায়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অবস্থান ও মতামত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানি প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে যাবে বলেও জানানো হয়।

তবে সরাসরি আলোচনা স্থবির থাকলেও, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ‘নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের’ বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানান তারা।

শনিবার ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওয়াশিংটন ‘খুব দ্রুত’ জয় পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, 'আমরা জিততে যাচ্ছি। আমার দৃষ্টিতে, এটি একভাবে হোক বা অন্যভাবে, খুব দ্রুতই শেষ হবে।'

যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কোন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন, তা জানাননি ট্রাম্প।

এর আগে, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার বা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

পরে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার সকালে বৈঠক করবেন আরাঘচি।

আইএসএনএ জানায়, বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ইরনাকে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার জন্য আরাঘচির নিউইয়র্ক অবস্থানের সময় বাড়ানো হয়নি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই তিনি পরবর্তী কার্যক্রম চালাবেন।

গত সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আরাগচির পরোক্ষ আলোচনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব সংশোধন করে নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় লেবাননও রয়েছে, যেখানে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে।

এছাড়া ইরান তার কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

তেহরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং এরপর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ আবার আলোচনা শুরু করবে।

আরাঘচি রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে জানানো হয়নি। ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

তিনি বলেন, 'আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর যেকোনো পদক্ষেপ এসব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।' 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই অচলাবস্থার সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় জাতিসংঘে অভিযোগ করেছে ইরান। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো বিমান খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটির বিমান চলাচলে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের প্রধান আবুজার শিরৌদি ইরনাকে বলেন, 'বিমান খাতের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় ইরান আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সোমবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও ইরানের বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে শুক্রবার ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা সব ফ্লাইট বন্ধ করেছিল ইরাক।

সরাসরি বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচিতে সীমিত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ইরান ও ইরাকের মধ্যে শিয়া মুসলিম ধর্মীয় তীর্থযাত্রী বহনকারী ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।

/এআই 

Logo