×
Logo

আন্তর্জাতিক

রয়টার্সের প্রতিবেদন

৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

পারস্পরিক আমদানি করা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী, গৃহস্থালি সামগ্রী ও খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর এই শুল্ক ছাড় কার্যকর হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেডের অধীনে দুই দেশই সংবেদনশীল নয়, এমন পণ্যের ৩ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যকে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।

গ্রিয়ারের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের ফলে চীনের বাজারে দেশটির মোট রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে।

পারস্পরিক শুল্ক কমানোর পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোও গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শি-ট্রাম্পের এ বছরের দ্বিতীয় বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল।

কৃষিপণ্যে শুল্ক কমাবে চীন

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করেছে বেইজিং। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, গম, সরগাম, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও তেলবীজের খৈল। তবে তালিকায় সয়াবিনের নাম নেই।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপরও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেবে চীন।

অন্যদিকে, চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর তালিকায় রয়েছে কফি মেকার ও টোস্টারের মতো ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, টেবিলওয়্যার, কম্বল ও বিছানার চাদর।

এছাড়া খেলনা, আতশবাজি, কৃত্রিম ফুল, ক্রিসমাস ট্রি'র বাতি ও অন্যান্য উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শিশুদের গাড়ির আসনও শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকছে।

বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ল

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ চলমান অর্থনৈতিক-বাণিজ্যসংক্রান্ত সমঝোতাগুলো মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য আরও সময় পাবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, বর্ধিত মেয়াদ, দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, নীতিগত স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

তবে দুই নেতার বৈঠকের পরও চীনের শেয়ারবাজারে সোমবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের অনেকে বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়ার বিষয়ে হতাশ হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি দুই দেশের অন্তর্নিহিত উত্তেজনাও আবার সামনে আসে।

কৃষিপণ্য ও কয়লা আমদানিতে নতুন সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর জন্য চীনের পণ্য নির্বাচনের পেছনে কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টিও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৭শ' কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে চীনের।

এরই মধ্যে গত বছর করা একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেনা আবারও বড় পরিসরে শুরু করেছে বেইজিং।

এছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য কাউন্সিলের অধীনে একটি কৃষি বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। চলতি বছরের শেষের আগেই এই কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার ও কৃষিপণ্যসংক্রান্ত বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা হবে।

অন্যদিকে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর ১ কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানির বিষয়েও সম্মত হয়েছে চীন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ চীনের মোট বার্ষিক কয়লা আমদানির প্রায় ২ শতাংশের সমান।

তবে চুক্তির তালিকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অপরিশোধিত তেলের নাম নেই।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়লা আমদানি চীনের অভ্যন্তরীণ কয়লা বাজারে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা শিল্পে স্থিতিশীল আয় ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আর্থিক খাতেও আলোচনা

বাণিজ্যিক সমঝোতার বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র। এআই ব্যবহারে কোনো ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হলে তা নিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি চ্যানেল রাখা হবে। এ বিষয়ে নভেম্বরের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনে ব্যবসা পরিচালনা ও শাখা খোলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে বেইজিং।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

/এআই 

Logo