গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কেন্দ্রীয় একটি পর্যটন এলাকায় বিস্ফোরণের পর দুই তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনই মার্কিন নাগরিক।
এথেন্সের মেয়র জানান, বিস্ফোরণটি গ্যাস অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ভাসিলিস ভাথ্রাকোগিয়ানোস এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারী নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও লাল হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকারী কুকুর, ক্যামেরা ও সেন্সরের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকা এক বয়স্ক দম্পতি এবং অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকা চার পর্যটকের সন্ধান করছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের অপরাধ তদন্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। বিস্ফোরণের আগে ওই এলাকায় গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এলাকাটি হোটেল ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনের জন্য পরিচিত।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহত চার পর্যটক ছিলেন দুই মার্কিন দম্পতি। শুক্রবার বিকেল ৩টায় এথেন্স বিমানবন্দর থেকে তাদের একটি ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। তবে তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত হননি।
শনিবার মরদেহগুলো শনাক্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়।
গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘গতকাল মধ্য এথেন্সে বিস্ফোরণে চার মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’
এথেন্সের প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এলাকাটি অ্যাক্রোপলিস ও জিউসের মন্দিরসহ এথেন্সের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা কয়েকটি পর্যটন স্থানের কাছাকাছি।
বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়ি, দোকান ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও ভাঙা কাচ প্রায় তিন ব্লক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পর ভবনটির কাঠামো পরিণত হয় বাঁকাচোরা ধাতব কাঠামো, ভাঙা টাইলস ও কংক্রিটের স্তূপ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে ছিল বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী ও পোশাক।
/এনজেএস/এনএ