গাজায় অস্ট্রেলিয়ার দুটি দাতব্য সংস্থার পাঠানো ৯শ’ হুইলচেয়ার আটকে দিয়েছে ইসরায়েল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
গাজায় অঙ্গহারা শিশুদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দুটি দাতব্য সংস্থার পাঠানো ৯০০টিরও বেশি হুইলচেয়ার প্রবেশ করতে দিচ্ছে 'না' ইসরায়েল। ২০২৫ সাল থেকে জর্ডানের একটি গুদামে পড়ে আছে এসব হুইলচেয়ার। এগুলো গাজায় পৌঁছে দিতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থাগুলো।
দাতব্য সংস্থা কিডস অন হুইলস অ্যালায়েন্স, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দু'টি চালানে হুইলচেয়ার জর্ডানে পাঠায়। একই বছরের, অক্টোবরে, আরও একটি চালান পাঠায় হুইলচেয়ার্স ফর কিডস।
বর্তমানে এসব হুইলচেয়ার জর্ডান হাশেমাইট চ্যারিটি অর্গানাইজেশন (জেএইচসিও) পরিচালিত একটি গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি তদারককারী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট এসব হুইলচেয়ার গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়েছে জেএইচসিও।
কিডস অন হুইলস অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান শাওকেট মোসেলমান দ্য নিউ আরবকে বলেন, গাজার জন্য হুইলচেয়ার সংগ্রহে তারা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তহবিল জোগাড় করছেন। স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও এসব হুইলচেয়ারের খরচ বহনে বড় ধরনের সহযোগিতা করেছেন।
তিনি জানান, প্যালেস্টাইন অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন হুইলচেয়ারগুলো গাজায় পাঠানোর পরিবহন ও সরবরাহের খরচেও সহযোগিতা করেছে। তবে ইসরায়েল কেন এসব হুইলচেয়ার আটকে রেখেছে, তার কোনো কারণ জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মোসেলমান বলেন, এসব চালান আটকে রাখার ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথাও জানানো হয়নি।
তার ভাষায়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পাঠানো হুইলচেয়ার আটকে রাখার কোনো বৈধ কারণ থাকতে পারে 'না'। গাজার হাজারো অঙ্গহারা শিশু এবং আরও বহু সহায়তাপ্রয়োজনী শিশুর জন্যই এসব হুইলচেয়ার পাঠানো হয়েছিল।
হুইলচেয়ারগুলো গাজায় পৌঁছে দিতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্যদের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান মোসেলমান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যাতে এসব হুইলচেয়ার গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেয়, সেজন্য উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরতে অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একটি কমিউনিটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় ফেডারেল এমপি, অস্ট্রেলিয়া ও জর্ডান সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত চাপ তৈরি করে হুইলচেয়ারভর্তি কনটেইনারগুলো গাজায় পাঠানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
মোসেলমানের দাবি, ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজার ১১ হাজারেরও বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ উপেক্ষা করা যায় না। বিশ্বের মানুষ যদি ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানবতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তার মতে, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনিরা দখল ও নিপীড়নের মধ্যে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য এই পরিস্থিতির অবসান প্রয়োজন।
এদিকে, মেলবোর্নভিত্তিক ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মোহাম্মদ হেলমি দাবি করেছেন, গাজায় হুইলচেয়ার প্রবেশের অনুমতি 'না' দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ইচ্ছাকৃত। তার অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
হেলমির ভাষ্য, অস্ট্রেলিয়ার স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে তৈরি ৯০০টির বেশি বিশেষায়িত হুইলচেয়ার, যেগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তায় অঙ্গহারা শিশুদের চলাচলে সহায়তার জন্য তৈরি, সেগুলো আটকে রাখার ঘটনা গাজায় ফিলিস্তিনিদের জীবনযাপন অসম্ভব করে তোলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
ইসরায়েলি হামলার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। হেলমির দাবি, শিশুদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুদামে আটকে রাখা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তি ও ধ্বংসের নীতির অংশ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার ফলে গাজায় আধুনিক ইতিহাসে শিশুদের অঙ্গহানির সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও হামলায় বিপুলসংখ্যক শিশু অঙ্গ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
/এআই