জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন
ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি মারওয়ান বারঘুতিকে মুক্তির আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যানের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না।
তার ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় বারঘুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে দেওয়া এক বক্তব্যে খান্না বলেন, ‘আজ আমি ইসরায়েলি কারাগার থেকে মারওয়ান বারঘুতির মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নেতা বেছে নিতে হবে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের এই ডেমোক্র্যাট নেতা বারঘুতির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে তার ‘অনন্য গ্রহণযোগ্যতা’ রয়েছে।
খান্নার ভাষ্য, অনেক ফিলিস্তিনির কাছে বারঘুতি দুর্নীতিমুক্ত, শক্তিশালী ও ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত।
খান্না আরও বলেন, বারঘুতির মুক্তি ভবিষ্যতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
তার দাবি, সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাও বারঘুতির মুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বারঘুতির অতীতের কর্মকাণ্ডকে খাটো করার চেষ্টা করছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন খান্না।
তিনি বলেন, বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়ার অর্থ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য ক্ষমা বা নৈতিক দায়মুক্তি দেওয়া নয়।
খান্নার ভাষ্য, ‘বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়া মানে তিনি যে অপরাধ করে থাকতে পারেন, সেগুলোর জন্য তাকে ক্ষমা করে দেওয়া বা নৈতিক দায়মুক্তি দেওয়া নয়।’
একই সঙ্গে কিছু মানবাধিকার সংগঠন বারঘুতির বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বারঘুতির মুক্তিকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য একটি উপায় হিসেবে দেখছেন খান্না। এক্ষেত্রে অতীতের কয়েকটি শান্তি প্রক্রিয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন ও ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের মধ্যকার শান্তি উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে খান্না বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়াতেও অতীতে সংঘাতে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আইআরএ অতীতে ভয়াবহ কর্মকাণ্ড চালালেও রাজনৈতিক সহাবস্থানের পথে আসার পর তাদের সাবেক যোদ্ধাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে। তার দাবি, বারঘুতিও বারবার একই ধরনের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা বলেছেন।
খান্না বলেন, ‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিনে ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেলে আমাদের একটি সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের প্রয়োজন হবে। তবে আপাতত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি প্রক্রিয়ায় কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। বারঘুতিকে মুক্তি দিন।’
/এআই