×
Logo

আন্তর্জাতিক

এআইয়ের বৈশ্বিক মান নির্ধারণে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য: বার্নহাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ এএম

এআইয়ের বৈশ্বিক মান নির্ধারণে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য: বার্নহাম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নীতিমালা ও মানদণ্ড তৈরির আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, এআই একদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, অন্যদিকে এটি নিরাপত্তা ও কর্মজীবনে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করছে।

গত জুলাইয়ে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘে এটিই ছিল বার্নহামের প্রথম ভাষণ। বক্তব্যে তিনি এআইকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত একটি প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। 

তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে এআই।

তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও কাজের ধরনে এআই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ প্রযুক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

বার্নহাম বলেন, ‘এআই আমাদের জীবনযাপন ও কাজের ধরনেও পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে এটি ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আমরা সবাই সতর্কবার্তাগুলো শুনেছি, আর সেগুলো আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। মানুষ কতটা উদ্বিগ্ন, আমি তা জানি। তাই এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।’

এআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে মৌলিক সিদ্ধান্তগুলো কোনোভাবেই অনিশ্চয়তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন বার্নহাম।

তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারগুলোকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

বার্নহামের ভাষায়, এআইয়ের মতো প্রযুক্তি নিয়ে মৌলিক সিদ্ধান্ত ‘ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় নয়। এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে এমন নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে, যারা কর্মজীবী মানুষের স্বার্থে কাজ করে এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় জনগণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এআই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন বার্নহাম। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সমুদ্রপথ, আকাশসীমা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত এবং মোকাবিলা করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের র‌্যাপিড এআই ডেলিভারি টাস্কফোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফিস এই সহযোগিতায় কাজ করবে। দুই দেশ বিশ্বস্ত ও পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াবে।

আগামী বছর যুক্তরাজ্য 'জি২০'-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে। সেই সময় এআইকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বার্নহাম।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের জি২০ সভাপতিত্বের ‘কেন্দ্রে’ থাকবে এআই। এর আওতায় প্রযুক্তিটির নিরাপদ বিকাশ, স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য এআই ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বার্নহাম বলেন, ‘আমরা একটি অভিন্ন বৈশ্বিক নীতি ও মানদণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করব। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, আমাদের প্রস্তুতি বাড়ানো এবং এআইয়ের বিকাশ যাতে নিরাপদ হয়, তা নিশ্চিত করতে চাই।’

যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে অভিন্ন নীতি ও মানদণ্ড তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ওপরই জোর দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার।

/এআই

Logo