×
Logo

আন্তর্জাতিক

সিএনএনের প্রতিবেদন

'জানুয়ারিতে মাদুরোকে তুলে নেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ, তবে, তিনি ৪০ চোরকে রেখে গেলেন'

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

'জানুয়ারিতে মাদুরোকে তুলে নেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ, তবে, তিনি ৪০ চোরকে রেখে গেলেন'

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দেশটির একাংশের নাগরিক। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে বসার কথা রয়েছে রদ্রিগেজের। তার এই সফরকে ঘিরেই ভেনেজুয়েলায় বিরোধিতা দেখা দিয়েছে।

কারাকাসে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে, রদ্রিগেজের সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নুরিস মেদিনা বলেন, ‘নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ওই অবৈধ ভারপ্রাপ্ত নারী প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে আমি পুরোপুরি একমত নই।’

গত ৩ জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন রদ্রিগেজ। 

মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মাদুরোর আটকের পর শুরুতে রদ্রিগেজ এর সমালোচনা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সরকারের বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে জ্বালানি, ঋণ পুনর্গঠন ও খনিসম্পদ নিয়ে আলোচনাও করেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মারগট মোনাস্তেরিওস বলেন, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভেনেজুয়েলাবাসী ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মারগট বলেন, ‘জানুয়ারির ৩ তারিখে সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনি ৪০ চোরকে রেখে গেছেন।’

কারাকাসের বিক্ষোভের বাইরে আরও কয়েকজন ভেনেজুয়েলাবাসীও রদ্রিগেজের নেতৃত্ব নিয়ে একই ধরনের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

মেরি রোমেরো বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই সরকারের কারণে আমরা অনেক ভুগেছি। এত কষ্ট... তাই এই নারী এমন ভান করে যে তিনিই ভেনেজুয়েলায় সিদ্ধান্ত নেন, এটা আমাদের জন্য ন্যায্য নয়। বিষয়টি এমন নয়; সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদের, জনগণের।’

আরেক বিক্ষোভকারী রাফায়েল আজুয়াখে বলেন, রদ্রিগেজ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি। অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং দেশের খনিজ সম্পদ কেড়ে নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

রাফায়েল বলেন, ‘তিনি জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচিত হননি। দ্বিতীয়ত, তার সেখানে থাকা উচিত নয়। কারণ তারা ভেনেজুয়েলার জনগণকে প্রতারিত করেছে এবং দেশের সব খনিজ সম্পদ নিয়ে নিয়েছে, অথচ জনগণের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান রদ্রিগেজ। ভেনেজুয়েলার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশনে তিনি শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানের পক্ষে দেশটির অবস্থান তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে, রদ্রিগেজের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক। এটি মাদুরোকে আটক করার পর, দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রদ্রিগেজের জাতিসংঘ সফর তাই একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বের উপস্থিতি তুলে ধরছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে তার বৈধতা ও নেতৃত্ব নিয়ে থাকা বিরোধিতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

/এআই 

Logo