×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার ইঙ্গিত তুরস্কের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার ইঙ্গিত তুরস্কের

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ক্রমেই বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুতি হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হয়ে থাকতে পারে। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এসব প্রয়োজন পূরণে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা বিবেচনা করবে আঙ্কারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় 'না' বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিদান জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

এদিকে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালিও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হুতিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তুরস্কের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার এই বার্তা এলো।

সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তান ‘যেকোনো মাত্রায়’, এমনকি সরাসরি সামরিকভাবেও সহায়তা করবে।

তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে, ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী ইসলামাবাদ ব্যবস্থা নেবে।

কী আছে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে?

‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি, গত ৭ আগস্ট, মক্কায়, স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

পরে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের নাম দেয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। একই বৈঠকে, রিয়াদে, জোটটির একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতে এর মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তিটির মূল নীতি হলো: তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ফিদান বলেছিলেন, জোটটি অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ 'না' করার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে এই প্রতিরক্ষা জোট বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো ও স্থায়ী বাহিনী এই জোটে নেই।

এছাড়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

/এআই 

Logo