গাজার প্রযুক্তি খাত ধ্বংসের মুখে, তবুও রোবটিকস শিখছে শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
গাজার প্রযুক্তি খাত যখন প্রায় ধ্বংসের মুখে, তখনও প্রোগ্রামিং ও রোবটিকস শেখার আগ্রহ হারায়নি সেখানকার শিক্ষার্থীরা। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে একটি টেবিল ঘিরে বসেছে একদল কৌতূহলী শিশু। তাদের সামনে রয়েছে কয়েকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, কিছু তার এবং একটি সাধারণ প্রোগ্রামেবল সার্কিট বোর্ড। এই সামান্য সরঞ্জাম দিয়েই তারা শিখছে রোবট তৈরির প্রাথমিক কৌশল।
দেইর আল-বালাহর ‘দ্য নেক্সট জেন টিম: রাইজিং রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার প্রজেক্ট’-এর শিক্ষার্থীরা অ্যালার্ম সিস্টেমে সেন্সর যুক্ত করা, রোবটিকসের বিভিন্ন বিষয়, মোটর ও ড্রাইভ ইউনিটের কার্যপ্রণালি এবং প্রোগ্রামিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ শিখছে।
শিক্ষার্থীদের এই গবেষণা, ভবিষ্যতে, জীবন রক্ষায়ও কাজে আসতে পারে। তারা যে রোবট ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, সেগুলোর উন্নয়ন হলে গ্যাস লিক বা অগ্নিকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানোর মতো দুর্গম উদ্ধার অভিযানেও এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো যেতে পারে।
বর্তমান পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গাজার বাইরে দ্রুত এগিয়ে চলা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ অনুসরণের সুযোগ ছিল। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি ইনকিউবেটর এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারতো।
কিন্তু ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এসব অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার মতো জায়গা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, দুটিই এখন সীমিত।
তারপরও রোবটিকসের প্রতি আগ্রহ এবং শেখার অদম্য ইচ্ছা তাদের দক্ষতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন ধরে রাখতে সহায়তা করছে। যুদ্ধের বোমাবর্ষণ থেমে গেলে এই দক্ষতাগুলো গাজার মানুষের কাজে লাগবে, এমন প্রত্যাশা তাদের।
যুদ্ধের আগে গাজার পাঁচটি প্রধান প্রযুক্তি ইনকিউবেটর প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কাজের জায়গা এবং প্রযুক্তি স্ট ইউনিভার্সিটি কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধিভুক্ত ইউার্টআপকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিত। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বিদেশি বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চাকরির সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ইনকিউবেটর আবার কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। এর একটি ইউনিভার্সিটি কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধিভুক্ত ইউসিএএস টেকনোলজি ইনকিউবেটর এবং অন্যটি ‘মাআন সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ ইনকিউবেটর।
তবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলেও এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যুদ্ধের আগের অবস্থার ২০ শতাংশের বেশি নয়। ফলে সীমিত সুযোগ ও সরঞ্জাম নিয়েই প্রযুক্তি শেখা, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গাজার তরুণ প্রজন্ম।
/এআই