‘এআই ফোর্স’ গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা ট্রাম্পের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও সতর্কতার মধ্যেই ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে, এআইবিষয়ক একজন বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন, এআই শিল্পের বিকাশে, কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি বা গতি কমিয়ে দেবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করার যে আহ্বান উঠেছে, তারও বিরোধিতা করেন তিনি।
ট্রাম্প তার পরিকল্পনার বিস্তারিত কোনো তথ্য বা বাস্তবায়নের সময়সীমা জানাননি। তবে তিনি এআইকে ‘পরবর্তী শিল্পবিপ্লব’ কিংবা ‘ইন্টারনেট বিপ্লবের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এর প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৫ শতাংশ পর্যন্ত এ প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এআই খাতে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন ট্রাম্প।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় এখন এআই অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আগামী সপ্তাহে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও এআই নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, এআই ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচারব্যবস্থাই ব্যবহার করবে তার প্রশাসন।
একইসঙ্গে, এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনাকে আবারও ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সতর্কতা ক্রমেই জোরালো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন এআই ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। এমনকি, এক গবেষক দাবি করেছেন, এ প্রযুক্তির কারণে একসময় পুরো মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।
এদিকে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ তৈরির চেষ্টাও রয়েছে। এটি এমন এক তাত্ত্বিক প্রযুক্তি, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ক্লড, চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি: এই তিন জনপ্রিয় এআই সেবার নির্মাতা অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই ও গুগলও তাদের প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা ত্রুটি ও ঘটনার কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনায় তাদের চ্যাটবটগুলো ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহৃত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুরো শিল্প খাতে উন্নয়ন ধীর করা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করা এবং এআই মডেল তৈরির প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কও আমোদেইয়ের সুপারিশের সঙ্গে একমত বলে জানিয়েছেন।
অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বিবিসিকে বলেছেন, এআই শিল্পে এমন একটি ‘কিল সুইচ’ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন হতে পারে, যা প্রয়োজনে তৃতীয় কোনো পক্ষ পরীক্ষা করতে পারবে।
এআই নিয়ে এসব সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে অল্টম্যান সম্প্রতি বলেছেন, এআইয়ের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং এ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরিতে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে।
তার মতে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর মানুষের আরও আস্থা রাখা উচিত।
সান ফ্রান্সিসকোতে এক সম্মেলনে অল্টম্যান বলেন, বিশ্ববাসীর আস্থা রাখা উচিত যে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক কাজটিই করবে, কারণ তারা বিষয়টির গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের এমপি ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা এআইয়ের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ মোকাবিলায় দেশটির বিদ্যমান আইনগুলো যথেষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটস (জেসিএইচআর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে এআইয়ের কারণে সৃষ্ট হুমকির ‘ব্যাপকতা ও গুরুত্ব’ মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
/এআই