সুরঙ্গ নির্মাণ-রাডার স্থাপনে সহায়তা করতে বাব এল-মান্দাবে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের বিশেষজ্ঞরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় রাডার স্থাপন ও পাহাড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গ খননের কাজ পরিদর্শন করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সামরিক সূত্র।
সূত্রগুলো জানায়, হুতিদের সঙ্গে কাজ করা ইরানি বিশেষজ্ঞরা, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের মোখা বন্দর ও বিমানবন্দর এবং শহরটির পূর্বে অবস্থিত জাবাল আল-নার সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় বাব এল-মান্দেবের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন তারা।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা মোখা ও বাব এল-মান্দেবের দিকে নজর রাখা পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সুড়ঙ্গ খননের কাজ পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে, মোখার আশপাশে এবং দক্ষিণ লোহিত সাগরে অবস্থিত জুকার দ্বীপে রাডার স্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা থেকে ওই ইরানি বিশেষজ্ঞরা বাব এল-মান্দেব এলাকায় যান। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথকভাবে এসব সফর অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেবের দিকে নজর রাখা কাহবুব পার্বত্য এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, গত জুলাই থেকে, ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই মোখা বন্দর ও বিমানবন্দর এবং বাব এল-মান্দেব এলাকায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির খবর সামনে এলো।
ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে স্কাই নিউজ আরাবিয়া জানিয়েছে, দক্ষিণ লোহিত সাগরের দিকে নজর রাখা পাহাড়গুলোতে রাডার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে হুতিরা। একইসঙ্গে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, সোমালিয়া উপকূল থেকে এসব সরঞ্জাম আনার পর গোপনে খালাস করা হয়। তবে কী ধরনের সরঞ্জাম আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ লোহিত সাগর এলাকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চাইছে হুতিরা। এর অংশ হিসেবে সমুদ্রপথের দিকে নজর রাখা পাহাড়ি এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি নতুন সামরিক অবস্থান গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে বলে ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ লোহিত সাগরের দিকে মুখ করে থাকা পাহাড়ি চূড়াগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করছে হুতিরা। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা দখলে নেওয়ার পর এসব পাহাড়ি এলাকায় সামরিক অবস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, লোহিত সাগরে অবস্থিত জুকার দ্বীপেও সামরিক অবস্থান গড়ে তুলছে হুতিরা। এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর মোখা বন্দর, বিমানবন্দর এবং বাব এল-মান্দেব এলাকা পরিদর্শন করেন আইআরজিসির চার বিশেষজ্ঞ। পৃথক এসব সফরে তারা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বলে সূত্রগুলোর দাবি।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের মাটিতে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, উপজাতীয় যোদ্ধাদের সহযোগিতায় সরকারি বাহিনী শুক্রবার হুতিদের দখলে চলে যাওয়া কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে।
এসব এলাকা তাইজ গভর্নরেটের আল-ওয়াজিয়াহ এবং আল-ধালিয়া গভর্নরেটের আল-মুধারাবাহ ও রাস আল-আরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
সূত্রগুলো জানায়, শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সরকারি বাহিনীর পক্ষে সাউদার্ন জায়ান্টস বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত শক্তি নিয়ে সেখানে পৌঁছান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতদের বেশির ভাগই হুতি সদস্য বলে দাবি করেছে স্থানীয় সূত্র।
বাব এল-মান্দেবের দিকে নজর রাখা কাহবুব পাহাড় এলাকাতেও তীব্র লড়াই চলছে। একদিকে সরকারি বাহিনী ও উপজাতীয় যোদ্ধারা এবং অন্যদিকে হুতিরা অবস্থান নিয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে হুতিরা। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তারা কাহবুব পর্বতমালায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে ইয়েমেনি সূত্রগুলো জানিয়েছে।
/এআই