মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ালো জাপান, ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ এএম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়িয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) তাদের নীতিগত সুদের হার ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ। খবর বিবিসির।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার বাড়িয়েছে।
বিওজে ২০২৪ সালে ঋণের সুদের হার মাইনাস ০ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বাড়ানো শুরু করে। এরপর গত আড়াই বছরে ছয় দফায় সুদের হার বাড়িয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অতি-কম সুদের নীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে অন্যান্য বড় অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দেশটি।
সাধারণত কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ালে ওই দেশের মুদ্রা তুলনামূলক শক্তিশালী হয়, কারণ তা বিনিয়োগকারীদের কাছে মুদ্রাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
তবে বর্তমানে জাপান বেশ কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ইয়েন, বাড়তে থাকা পণ্যমূল্য এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকোচন।
শুক্রবার বিওজের সিদ্ধান্তের আগে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে জাপানের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। দেশটির মূল মূল্যস্ফীতি আগস্টে ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাপানের মূল্যস্ফীতির হার খুব বেশি না হলেও, দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পর আবারও মূল্যবৃদ্ধি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন দশক ধরে জাপান খুব কম মূল্যস্ফীতি কিংবা পণ্যের দাম কমে যাওয়ার (ডিফ্লেশন) পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় চলতি বছরে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংকটে জাপান বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েনের মূল্যও চাপে রয়েছে। আগস্টে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলে ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর এটাই ছিল দুই দেশের প্রথম যৌথ মুদ্রাবাজার হস্তক্ষেপ। সে সময় জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্টও ইয়েনের মান ধরে রাখতে বিওজেকে সুদের হার বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। তিনি জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদাকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
/এনএ