×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের ‘যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘ, অভিযোগ তেহরানের বিরুদ্ধেও

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের ‘যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘ, অভিযোগ তেহরানের বিরুদ্ধেও

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার ‘যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি’ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত মিশন। একই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্সের। 

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন জানায়, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুল ও লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনায় চালানো হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার বিষয়ে তারা পর্যাপ্ত ভিত্তি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনাবের শাজেরেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছে, হামলাটি বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচার আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে।

তদন্ত মিশনের দাবি, স্কুলটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌঘাঁটির কাছাকাছি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় ওই স্থাপনা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য ছিল না। এছাড়া এটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না, তা নিশ্চিত না করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি কেবল অবহেলা নয়; বরং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করার মতো কারণ রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় কোনো মেয়েদের স্কুলকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়।

লামের্দ শহরের ক্রীড়া স্থাপনায় হামলার বিষয়েও জাতিসংঘের মিশন একই ধরনের মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা এটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এর আগে জানিয়েছিল, ওই দিন লামের্দ শহরে মার্কিন বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘ। 

এ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

প্রতিবেদনে অবৈধ হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলেছে, বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করা এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারসহ সরকারের পদক্ষেপ আগের দমন-পীড়নের তুলনায় বড় ধরনের বৃদ্ধি।

ইরান সরকার অবশ্য বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরানের দাবি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিদেশি শক্তির সমর্থনপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারী’ ছিল।

জাতিসংঘের মিশন জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইরান সরকারের দেওয়া ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার আহতের হিসাবের চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে।

/এনএ 


Logo