×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩য় বার প্রস্তাব পাস: এপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩য় বার প্রস্তাব পাস: এপি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আবারও প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তৃতীয়বারের মতো অনুমোদিত এই যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে, অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ২২০টি এবং বিপক্ষে ২০৪টি। এর আগেও একই ধরনের দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবারের ভোটে, আগের তুলনায়, আরও কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে 'ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে' ভোট দিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তা পাঠানো হয়, ট্রাম্প সেটিতে ভেটো দিতে পারেন।

ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সেথ মোলটন, যিনি ইরাক যুদ্ধে মেরিন সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এই প্রস্তাব এগিয়ে নেন। তিনি বলেন, 'কংগ্রেসের উচিত সংবিধান অনুযায়ী কঠিন প্রশ্ন তোলা, কোনো যুদ্ধপ্রবণ প্রশাসনের অধীনস্থ হয়ে থাকা নয়।'

তবে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সদস্য ব্রায়ান মাস্ট এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হলে, ডেমোক্র্যাটরা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেন সামরিক সক্ষমতা সরিয়ে নিতে চান।

মাস্ট বলেন, ট্রাম্প 'চিরস্থায়ী যুদ্ধের' বিরোধী এবং তিনি ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছেন। তার ভাষায়, 'তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলমান হুমকি। যথেষ্ট হয়েছে।'

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সবশেষ ভোট

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোটটি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই যুদ্ধ এখন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। এরপর প্রায় সাত মাস ধরে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে আছে।

সপ্তাহের শেষে আইনপ্রণেতারা নির্বাচনী প্রচারে ফিরবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত, ইরান যুদ্ধের পেছনে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে, প্রতি মাসে, আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিবিও'র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে।

রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভাজন-ভিন্নমত

দ্বিতীয় মেয়াদে, হোয়াইট হাউসে ফেরার সময়, ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে 'না' জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক পদক্ষেপ এখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণকারী রিপাবলিকান দলের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

জুলাইয়ে প্রকাশিত এপি-এনওআরসি জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

এর আগে, প্রতিনিধি পরিষদের দু'টি ভোটে চারজন রিপাবলিকান সদস্য যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের ভোটে সেই সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়।

যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানদের মধ্যে ছিলেন আইওয়ার জাকারি নান ও মারিয়্যানেট মিলার-মিকস, দক্ষিণ ক্যারোলিনার ন্যান্সি ম্যাস, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক এবং কেন্টাকির থমাস ম্যাসি।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত করতে কংগ্রেস, এর আগেও, একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

/এআই 

Logo