×
Logo

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে ইউক্রেনকে ট্রাম্পের আহ্বান: সিএনএন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ এএম

রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে ইউক্রেনকে ট্রাম্পের আহ্বান: সিএনএন

রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কিকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইউক্রেনের এমন হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির উচিত রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা। তবে অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইউক্রেনের প্রতি তার আপত্তি নেই।

ট্রাম্প বলেন, ‘মি. জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাক, কিন্তু ডিজেল জ্বালানিতে নয়। কারণ, এতে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।’

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘এটা মধ্যপ্রাচ্যের কারণে হচ্ছে না। রাশিয়া ও ইউক্রেনে যা ঘটছে, তার কারণেই এটি হচ্ছে।’

তবে ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চলতি সপ্তাহে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৮ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার প্রথমবারের মতো দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়াই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রফতানিকারক। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে, দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলায় দেশটির বেশ কয়েকটি বড় জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এর মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা আরও জোরদার করেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়াহোদিনে একটি গ্যাস স্টেশনে আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। শহরটি পোল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ইয়াহোদিনে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত ক্রসিংয়ে রাশিয়ার ‘বর্বর হামলা’ শুধু ইউক্রেনের সীমান্তে চলমান হামলারই ধারাবাহিকতা নয়; এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় সরাসরি ‘পুতিনের সন্ত্রাসের কড়া নাড়ার মতো’।

হামলার পর সীমান্ত ক্রসিংটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

ইয়াহোদিন ইউক্রেনের সঙ্গে পোল্যান্ডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংয়ের একটি। এসব পথ দিয়ে ইউক্রেনে বিপুল পরিমাণ পশ্চিমা সামরিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছায়।

রোববার কিয়েভে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাও সিকোরস্কি সীমান্তের কাছে রুশ হামলার ব্যাপকতর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, রাশিয়া উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। এসব ড্রোনে জেট ইঞ্জিন এবং উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা ছিল। তার মতে, এটি সংঘাতের একটি নতুন মাত্রার ইঙ্গিত এবং ইউক্রেনের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের সম্ভাব্য শিকারদের জন্যও বড় হুমকি।

এদিকে ইউক্রেনীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনেও রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওই ট্রেনে হামলার কিছুক্ষণ আগে ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা একটি কূটনৈতিক ট্রেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ইউরোপের সাবেক কয়েকজন নেতা ছিলেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও ছিলেন।

হামলার ঠিক সেই সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা আরেকটি ট্রেনে সাবেক সিআইএ পরিচালক ডেভিড পেট্রেয়াসও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় রেলওয়ে।

এমন পরিস্থিতিতে একদিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সামনে এসেছে, অন্যদিকে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের আঞ্চলিক বিস্তার এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

/এআই 

Logo