তাইওয়ানে নতুন করে অস্ত্র বিক্রি করলে শি-ট্রাম্প বৈঠক বাতিলের হুমকি চীনের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অস্ত্র বিক্রি করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠক বাতিল করা হতে পারে বলে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে বেইজিং। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, হোয়াইট হাউসে, শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এক বছরের মধ্যে দুই নেতার এটি হবে তৃতীয় সরাসরি বৈঠক।
তবে প্রস্তাবিত এই বৈঠককে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তাইওয়ান ইস্যুতে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে দিয়েছে, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান একটি ‘রেড লাইন’।
ফলে তাইওয়ানের কাছে নতুন কোনো অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হলে চলতি মাসের বৈঠক বাতিলের পথে হাঁটতে পারে চীনা সরকার।
আগামী নভেম্বরের, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তার জনসমর্থন কমে যাওয়ায় চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকটি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তিনি। এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই, তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। অন্যদিকে, স্বশাসিত দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরের ডিসেম্বরে, ট্রাম্প প্রশাসন, তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি নজিরবিহীন অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করে। এ ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।
পরে চলতি বছরের, মে মাসে, এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে নিজেদের অস্ত্রের মজুত নিশ্চিত করতে তাইওয়ানের জন্য আরও প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি পৃথক অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে চীনা সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, তাহলে শি-ট্রাম্প বৈঠক বাতিল করতে পারে বেইজিং।
এদিকে, তাইওয়ান প্রণালি ও এর আশপাশে সামরিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে চীন। গত জুলাইয়ে, ২০২৪ সালের পর, প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। এতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত ও চীনের আক্রমণের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানই ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’। একইসঙ্গে বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়লেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: দুই পক্ষই এমন কোনো সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে চাইছে, যা তাদের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সমঝোতাকে ভেস্তে দিতে পারে। এরইমধ্যে গত মে মাসে, বেইজিং সফরের সময় ট্রাম্পও বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হতে পারে।
১৯৭৯ সালে, বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই বছর মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় দ্বীপটির পর্যাপ্ত আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে ওয়াশিংটন।
তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা নিয়ে দ্বীপটির মানুষের মধ্যে সংশয় বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শি-ট্রাম্প বৈঠকে ইরানের যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ফলে ইরানের ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বেইজিংয়ের ওপরও পড়তে পারে।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, জুলাইয়ে, তিন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা একটি হামলা চালাতে ইরান চীনের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছিল। তাদের দাবি, ছয় মাসের ওই সংঘাতে ইরানের মিত্র হিসেবে চীনের সহযোগিতা প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে এনেছিল, এটি তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।
তবে ইরানকে হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের অভিযোগ নিয়মিতই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন।
এদিকে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি চীনা সরকার।
/এআই