আলজাজিরা এক্সপ্লেইনার
ব্রিকস সম্মেলন: এবারের আলোচনায় কী থাকছে, কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনের (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজক ভারত। এরই মধ্যে সম্মেলন ঘিরে ব্রিকসের প্রতীকী চিহ্ন, আলোকসজ্জা এবং নানা সাজসজ্জায় বদলে গেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক জোটগুলোর বিকল্প শক্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া এই জোটের ১৮তম সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ১২টি দেশের নেতা। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তারা। সম্মেলন উপলক্ষে প্রায় ৩০ হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অতিথি রাষ্ট্রপ্রধানদের অবস্থানের হোটেলগুলোর আশপাশের সড়কেও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন। সাত বছর পর আজ শনিবার ভারত সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

এবারের সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে চলছে বড় ধরনের অস্থিরতা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান অভিযান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
তবে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে ব্রিকসের সামনে। ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের সংঘাত এবং ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য।
তাহলে এবারের সম্মেলনে এসব বিভাজন কীভাবে সামাল দেবে ব্রিকস? আর আলোচনার মূল বিষয়গুলোই বা কী?
ব্রিকস কী?
ব্রিকস হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক জোট। ২০০৬ সালে গঠিত এই জোটের প্রথম সম্মেলন হয় ২০০৯ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল ‘ব্রিক’। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ার পর এটি ‘ব্রিকস’ নামে পরিচিতি পায়।
২০২৩ সালে জোটটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
একই সময়ে আর্জেন্টিনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নীতির কারণে সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া ব্রিকসে যোগ দেয়।
বর্তমানে ১১টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার।
লক্ষ্য কী?
জোটটির মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা। প্রতি বছর সদস্য দেশগুলো পালাক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
কারা অংশ নিচ্ছেন এবারের সম্মেলনে?
ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলোর বেশির ভাগের শীর্ষ নেতারা এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও উপস্থিত থাকছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।
তবে প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ দেশের মধ্যে শুধু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা অংশ নিচ্ছেন না। দেশটির স্থানীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারছেন না। ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা।
নতুন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অংশ নিচ্ছেন—
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
- ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ
- ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো
অন্যদিকে, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অংশ নিচ্ছেন সরকারের প্রতিনিধিরা।
সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে অংশ নিচ্ছেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
এছাড়াও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা, উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপোসহ আরও কয়েকজন বিশ্বনেতা।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো-ইওয়েলা উপস্থিত থাকছেন।
সম্মেলনের আলোচনায় যা থাকছে?
ব্রিকসের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রভাব কমিয়ে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ।’
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা
এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী করা, বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় নিয়ে আলোচনা হবে।
ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরানের জন্য আন্তঃসীমান্ত অর্থ দেওয়ার নতুন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে তিনি আরও বলেন, ব্রিকস সদস্যরা এখনই মার্কিন ডলারের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করবে না।
রাশিয়ার ক্রেমলিন জানিয়েছে, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে বাণিজ্য লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে মস্কো।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখা এবং ঝুঁকি কমানোই এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধ এবারের ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয় জোটটি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবার সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এটি ভারতের মাটিতে তার প্রথম সফর এবং আট বছর পর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্টের ভারত সফর।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ব্রিকসের সদস্য হওয়ায় এই যুদ্ধ সরাসরি বাণিজ্য পথ, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলছে।
তবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ব্রিকস সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটি জানিয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
ব্রিকসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নিয়ে নতুন কোনো বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। কারণ কয়েক বছর ধরেই ব্রিকস নেতারা মস্কোর যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করে আসছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিকসের ১৭তম সম্মেলনে দেওয়া যৌথ ঘোষণায় রাশিয়ার সমালোচনা করা হয়নি। বরং ইউক্রেনের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার আলোচনার মূল বিষয় হবে, যুদ্ধ নিয়ে প্রত্যেক সদস্য দেশের বৈধ স্বার্থ কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া যায়।
এবারের সম্মেলন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ব্রিকস সম্মেলন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্লোবাল সাউথের বড় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রদর্শনের সুযোগ দেবে।
এদিকে, সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরও এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
চীন ও ভারতের সম্পর্ক ২০২০ সালের হিমালয় সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে উত্তেজনাপূর্ণ। তবে সম্প্রতি সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হলেও সীমান্ত বিরোধ ও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অবিশ্বাস রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সম্মেলন দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, ব্রিকস সম্মেলন দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন কোথায়?
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। অন্যদিকে ভারত দুই দেশের (ইরান ও ইসরায়েল) সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চায় না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্রিকস সম্ভবত কোনো দেশকে সরাসরি দায়ী না করে সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও আন্তর্জাতিক আইন মানার মতো বিষয় তুলে ধরবে।
ইয়েমেন সংকট
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনাও ব্রিকসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইয়েমেনে হুথিদের হামলা ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর পাল্টা অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ভারত-চীন বিরোধ
ভারত ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধের কারণে উত্তেজনাপূর্ণ। চীন ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চায়। তবে ভারত মনে করে, ব্রিকস কোনো পশ্চিমবিরোধী জোট নয়; বরং এটি কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখার একটি মাধ্যম।
পশ্চিমাদের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছেন এবং জোটটিকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তাদের মতে, সদস্য দেশগুলোর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আরও বেশি বিকল্প তৈরি করা, যেমন বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা, অর্থপ্রদানের নতুন পথ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমানো।
বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, ব্রিকসের মূল প্রশ্ন ঐক্য তৈরি করা নয়; বরং মতপার্থক্যের মধ্যেও কীভাবে বাস্তব সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, বিশ্বের অনেক দেশ ব্রিকসে যুক্ত হচ্ছে কারণ তারা আরও বেশি বিকল্প, প্রভাব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ চায়।
/এসআইএন