×
Logo

আন্তর্জাতিক

বাব এল-মান্দেব দখলে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে সৌদিতে সেন্টকম প্রধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

বাব এল-মান্দেব দখলে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে সৌদিতে সেন্টকম প্রধান

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বাহিনীর দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কমান্ডার।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী, হুতিদের আকস্মিক অভিযানের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয়ের জন্যই তার এই সফর।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন দুটি সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ব্র্যাড কুপার। বৈঠকে ইয়েমেন সরকারের সমর্থক বাহিনীগুলোর সামরিক অবস্থান পুনর্গঠন এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলে নেয় হুতিরা। এরপর শুক্রবার তারা দখলে নেয় ধুবাব এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ। এর মাধ্যমে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ  বাব এল-মান্দেব প্রণালীর ওপর প্রভাব বিস্তারের অবস্থানে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষকরে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলার কারণে বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে এই রুটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

গত জুলাইয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হুতিরা যদি সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে যাওয়া জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়াতে পারে।

২১ জুলাই ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'যদি এমন কিছু ঘটে, আমরা এর ব্যবস্থা নেব।' 

এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে, হুতিদের বিরুদ্ধে নৌ ও বিমান হামলার অভিযান অনুমোদন করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মাত্র ৫২ দিন পর ওমানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর ইয়েমেনে সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অনুমোদন এখনো দেননি ট্রাম্প।

এ বিষয়ে এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় মনোযোগী। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিত্রদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।'

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, সৌদি আরবে সেন্টকমের অধীনে অন্তত ১৬০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনায় সমন্বয়ের কাজ করছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এক সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুতিদের প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালাতে তাদের উৎসাহ দিচ্ছে, এমন পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর এই সমন্বয় আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতের স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কয়েকটি স্থানে আগুন ও ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করে সৌদি আরব।

২০১৯ সালেও হুতিরা ওই পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 

তবে এবারের ঘটনার বিষয়ে এখনো সৌদি সরকার বা দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো কোনো মন্তব্য করেনি।

/এআই 

Logo