×
Logo

আন্তর্জাতিক

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত দ্বীপ পেরিম, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত দ্বীপ পেরিম, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ পেরিমে পৌঁছেছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।  

এর আগে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের দুটি সূত্র জানিয়েছিল, সরকারি বাহিনী পেরিম দ্বীপ থেকে সরে গেছে। একই সময়ে দ্বীপটির মুখোমুখি লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ধুবাবও হুতিরা দখলে নিয়েছে বলে জানানো হয়।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবেই এসব এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকা এবং লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে গোষ্ঠীটি।

প্রসঙ্গত, আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির মতোই বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। হুতিরা যদি পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক সৌদি আরব লোহিত সাগরীয় নৌপথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শেষে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার পথে রয়েছে, যা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর প্রথমবারের মতো এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে শুক্রবার দাম সামান্য কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি সাময়িক সমঝোতার বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করছেন— ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এমন প্রতিবেদনের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা যায়।

অন্যদিকে, হুতিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ তৎপরতা বন্ধ করতে অস্ত্র ও বিমান মোতায়েনের কথা জানিয়েছে তারা।

সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি বেসামরিক নাগরিকদের তাইজ থেকে মোকা যাওয়ার সড়ক ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় হুতিদের সামরিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির উত্তরের পাশাপাশি দীর্ঘ লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে ইরানসমর্থিত গোষ্ঠীটি।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

দুটি ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় এবং এ কাজে আরও অর্থ, অস্ত্র ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে ইরান প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, হুতিরা তাদের ‘প্রক্সি’ নয়।

এদিকে, সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও চলতি সপ্তাহে গোষ্ঠীটির দখলে যাওয়া কৌশলগত এলাকাগুলোতে এখনো বড় ধরনের অভিযান চালায়নি রিয়াদ। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের অস্ত্র ও পরামর্শে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেলেও সৌদি আরব কেন তার মিত্র ইয়েমেন সরকারের পক্ষে আরও জোরালোভাবে হস্তক্ষেপ করছে না।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ওয়াশিংটনের। তবে ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।

আবার এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাময়িক সমঝোতার উদ্যোগও চলছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ওমান ও ইরানের উদ্যোগে এ বিষয়ে আলোচনা করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ওমানের উপকূলীয় শহর সালালাহতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

/এনএ 


Logo