বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এ পর্যায়ে পৌঁছায় তেলের দাম। খবর বিবিসির।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পরে কিছুটা কমে ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। তেহরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ট্যাংকারের চারটি ওমান উপসাগরে এবং একটি খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এর জবাবে ইরান, জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করে তেহরান। তবে মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফলভাবে এড়িয়ে গেছে এবং কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
এদিকে, সৌদি আরবেও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদির আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারেও। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। কিন্তু সংঘাতের কারণে কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফলে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পেট্রলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান যখনই মার্কিন নৌযানে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, তখনই তাদের তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দ করেছে তারা। তবে মার্কিন সেন্টকম জানায়, সেটি এক দিন আগেই ত্রুটির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সোনার-রাডার সরঞ্জাম ছিল না।
/এনএ