রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো চালু হলো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত নতুন এই সেতু দিয়ে এখন দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে। তবে বাণিজ্য ও পর্যটনের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিতে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি মূলত যাতায়াত, পর্যটন ও বাণিজ্যের কাজে ব্যবহৃত হবে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং একে আখ্যা দিয়েছেন ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবেন।
নতুন সেতু ঘিরে অবশ্য ভিন্ন আশঙ্কাও রয়েছে। ইউক্রেনভিত্তিক ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা গবেষণা দল ট্রুথ হাউন্ডসের দাবি, সেতুটির প্রধান উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্য বা যাত্রী চলাচল নয়; বরং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে সহায়তা করতে এটি একটি গোপন সামরিক সরবরাহপথ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
সংস্থাটির মতে, ২০২৪ সালে, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির প্রেক্ষাপটে নতুন এই যোগাযোগপথ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো সহজ হতে পারে। একইভাবে রাশিয়া থেকেও প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ধরনের সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই দেশের যেকোনো একটি ‘আগ্রাসনের’ শিকার হলে অপর দেশ সহযোগিতা করবে।
নতুন সড়ক যোগাযোগের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়ার কাছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের অনুমান, জাহাজের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া, ইতোমধ্যে, রাশিয়াকে ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা সরবরাহ করেছে। এছাড়া আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ট্রুথ হাউন্ডসের মতে, নতুন সেতু চালু হওয়ায় সামরিক জনবল ও সরঞ্জাম পরিবহনের এই কার্যক্রম আরও সহজ হতে পারে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিনের ভাষায়, নতুন এই সেতু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে ‘শক্তিশালী গতি’ তৈরি করবে। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি মস্কো-পিয়ংইয়ং সম্পর্ককে ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
/এআই