যুদ্ধে জাহাজের জ্বালানি সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে দাম; পণ্যের দর বৃদ্ধির শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সমুদ্রপথে। কিন্তু সেই বাণিজ্যের চাকা ঘোরানোর জ্বালানিতেই এখন টান। সরবরাহ কমেছে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে বহুল ব্যবহৃত হেভি ফুয়েল অয়েল বা বানকার ফুয়েলের।
গত মার্চ থেকে আগস্ট, এই ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ফুয়েল অয়েল রফতানি গত বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। যা গড়ে নেমে এসেছে প্রতিদিন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেলে।
অন্যদিকে, তেল পরিশোধনাগারগুলোও জাহাজের জ্বালানির বদলে বেশি লাভজনক ডিজেল, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল উৎপাদনে ঝুঁকছে। ফলে একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে চাহিদা ও দাম। দুইয়ে মিলে তৈরি হচ্ছে সংকট।
বিশ্লেষকরা বলছে, এর পেছনে বড় কারণ ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধের কারণে কার্যত বিপর্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে যাতায়াত করত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুথিদের হামলার কারণে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের জাহাজ চলাচল সংকট।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার। ফলে রাশিয়া থেকেও কমছে ফুয়েল অয়েল রফতানি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বানকার ফুয়েল হাব সিঙ্গাপুর। দেশটি তার ব্যবহৃত প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ফুয়েল অয়েলের অর্ধেকেরও বেশি আমদানি করে। যুদ্ধ শুরুর পর সিঙ্গাপুরে ভিএলএসএফও অর্থাৎ কম সালফারযুক্ত জাহাজের জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মেট্রিক টনের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৮২৫ ডলারে।
জাহাজের জ্বালানির দাম বাড়ার অর্থ শুধু জাহাজ কোম্পানির বাড়তি খরচ নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়ে পরিবহন খরচ। আর শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের চাপ গিয়ে পড়ে পণ্য উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর। অর্থাৎ যুদ্ধের আগুন থেকে দূরে থাকা দেশগুলোর বাজারেও পৌঁছাতে পারে এর আঁচ।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত না থামলে জাহাজের জ্বালানির দামও কমবে না। কারণ, বিশ্বে অতিরিক্ত পরিশোধন সক্ষমতা খুব সীমিত।
/এমএন