আরব নিউজের প্রতিবেদন
নিরাপত্তার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না: কাতার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
নিরাপত্তার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারে না। নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে স্বনির্ভর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছে কাতার।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে, আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু এসব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাদের ওপর এককভাবে নির্ভর করা যাবে না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী কাতার
কাতার, বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তবে একই সময়ে ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে দেশটি। বিশেষকরে, কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিও কাতারে অবস্থিত। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির সামরিক স্থাপনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত এখন অনেকটা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। একদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি করছে ইরান, অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধের চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতা
সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেন।
এর আগে, হরমুজ প্রণালির দুই তীরের দেশ ইরান-ওমান যৌথভাবে জানিয়েছিল, তারা একটি অস্থায়ী জাহাজ চলাচল করিডর চালু এবং সমুদ্রপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে, কাতারের পক্ষ থেকে নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা জোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/এআই