×
Logo

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধে ৬ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত একশ' বিলিয়ন ডলার খরচ মার্কিনদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

ইরান যুদ্ধে ৬ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত একশ' বিলিয়ন ডলার খরচ মার্কিনদের

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর, গত ছয় মাসে, জ্বালানি কিনতে অতিরিক্ত প্রায়একশ' বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন মার্কিন ভোক্তারা। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের একটি ট্র্যাকারের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। সেই হিসাবে, গড়ে প্রতি পরিবারকে অতিরিক্ত প্রায় ৭৬৩ ডলার জ্বালানির পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শুরু থেকেই ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্যও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়লে বাড়ুক।’

এর পরিবর্তে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য তেল কোম্পানিগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের’ অভিযোগও করেছেন।

পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ গড়িয়েছে ষষ্ঠ মাসে

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, সংঘাতটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানেরও কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেট্রোলের দাম। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের তুলনায় পেট্রলের ব্যবহার অনেক বেশি।

যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ১৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রতি লিটারের হিসাবে দাম বেড়েছে প্রায় ৭৯ সেন্ট থেকে ১ দশমিক ০৯ ডলারে।

অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়েছে আরও বেশি। প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার। অর্থাৎ ছয় মাসে দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশেরও বেশি। প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে প্রায় ৯৭ সেন্ট থেকে ১ দশমিক ৫৬ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি?

অঙ্গরাজ্যভেদে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে সাধারণত দাম সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ।

যুদ্ধ শুরুর আগেই, উচ্চ জ্বালানি কর ও মূল্য নির্ধারণ কর্মসূচির কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানির দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। যুদ্ধের পর সেই চাপ আরও বেড়েছে।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। এরপর রয়েছে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য—৫ দশমিক ৫১ ডলার, হাওয়াই—৫ দশমিক ৩৯ ডলার, আলাস্কা—৫ দশমিক ০৩ ডলার এবং ওরেগন—৫ দশমিক ০১ ডলার।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে কম দামে পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে ইন্ডিয়ানায়। সেখানে প্রতি গ্যালনের গড় দাম ৩ দশমিক ৪৩ ডলার।

জ্বালানির দাম বাড়লে খাদ্যের দামও বাড়ে

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকেছে না। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।

কৃষিতে সার উৎপাদন, ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালানো থেকে শুরু করে খাদ্য সংরক্ষণের হিমাগারে শীতলীকরণ ব্যবস্থা পরিচালনা: সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি খাদ্য প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিক এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকের জ্বালানিও তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর। অর্থাৎ সুপারমার্কেটের তাক পর্যন্ত খাদ্য পৌঁছানোর আগেই এর দামে কয়েক দফা বাড়তি খরচ যুক্ত হয়।

বিশেষকরে, নিম্নআয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। এসব দেশের মানুষ আয়ের তুলনামূলক বড় একটি অংশ খাদ্য কিনতে ব্যয় করেন। একই সঙ্গে অনেক দেশ খাদ্যশস্য ও কৃষি সারের বড় অংশ আমদানি করে।

তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এসব দেশে দ্রুত খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে খাদ্যসংকটও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

/এআই 

Logo