হরমুজে দক্ষিণ কোরিয়ার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন হিসেবে দেখবে ইরান: বাঘেই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
হরমুজে দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশগ্রহণ না করতে কোরিয়ান ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উপস্থিতি বা কোনো অভিযানে অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসনকে’ সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণ কোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে পোস্টটি কোরিয়ান ভাষায় লেখা হয়।
বাঘাই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি কিংবা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া হিসেবে দেখবে ইরান। এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তেহরান ও সিউলের মধ্যে ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক রয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে হরমুজ প্রণালিতে সামরিকভাবে যুক্ত 'না' হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সিউল জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে তারা।
দক্ষিণ কোরিয়া এখনো হরমুজ প্রণালিতে সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দেশটির বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল, মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অ-যুদ্ধভিত্তিক সক্ষমতা।
ইরানের সতর্কবার্তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর চাপ দিচ্ছে। ফলে তেহরানের হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের চাপ: দুইয়ের মধ্যে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে চাপে পড়েছে সিউল।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া যদি সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়, তাহলে তা তেহরানের সঙ্গে সিউলের সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/এআই