×
Logo

আন্তর্জাতিক

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অর্থের নতুন উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটিতে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি পর্নগ্রাফি থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধের তহবিল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এ নিয়ে পার্লামেন্টে একটি বিলও তোলা হয়েছে।

ইউক্রেনে বর্তমানে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ বা বিতরণ আইনত নিষিদ্ধ। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনভিত্তিক কনটেন্টের বাজার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অনেক সময় দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপে থাকেন। এমনকি, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে কর দাবি করতে শুরু করেছে। কিন্তু কর পরিশোধ করলেই তারা কার্যত এমন একটি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছেন, যা দেশটির আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পক্ষে একটি বিল এনেছেন।

তার দাবি, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করা হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর রাজস্ব পেতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত কর আদায় সম্ভব। এই অর্থ দিয়ে ইউক্রেন প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কিনতে পারবে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ঝেলেজনিয়াক বলেন, বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নারীরা হয় কর 'না' দিয়ে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন, অথবা কর দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে পর্নোগ্রাফি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন। তার ভাষ্য, বিষয়টি একই সঙ্গে ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর’।

রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগে দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পের বিষয়ে অনেকটাই চোখ বন্ধ করে রাখত। তবে যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।

ইউক্রেনের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির তিনটি অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘুষ হিসেবে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর দুই বছর পর অনলি ফ্যানস-এর মূল প্রতিষ্ঠান ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্যেও উঠে আসে ইউক্রেনের এই শিল্পের বড় পরিসর। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শুধু ২০২৩ সালেই ইউক্রেনের ৭ হাজার ৯০০ জন 'অনলি ফ্যানস' থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।

এরপর কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে কিয়েভ। যারা নিয়ম মেনে করের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরে কর্তৃপক্ষের চিঠি পান। তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং অবৈধভাবে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ আনা হয়।

পিটিশনটি প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষ এতে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিষয়ে ঝেলেজনিয়াকের প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে বিবেচনার ব্যবস্থা করবেন।

ঝেলেজনিয়াকসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার যৌথ উদ্যোগে তৈরি পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফার পাঠে অনুমোদন পেয়েছে। এখন বিলটি দ্বিতীয় দফায় আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিলটি পাস হলে, ইউক্রেনে, পর্নোগ্রাফি শিল্পের বর্তমান আইনি অবস্থান বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পথও তৈরি হতে পারে।

তবে যুদ্ধের মধ্যে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগটি ইউক্রেনের সামাজিক-ধর্মীয়- রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এআই 


Logo