গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত শতাধিক মানুষের দাফন সম্পন্ন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ জনের দেহাবশেষ দাফন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনই শিশু। ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিচে এখনও আরও হাজারো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজার উত্তরাঞ্চলের জেইতুন এলাকা থেকে স্বজনেরা এসব দেহাবশেষ নিয়ে যান কেন্দ্রীয় গাজা সিটির আল-মামাদানি কবরস্থানে। সেখানে স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের দাফন ও জানাজার আয়োজন করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করেছেন পরিবারের সদস্য ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীরা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এসব বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্বজনদের দেহাবশেষ উদ্ধার করে এবার তাদের একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন করতে পারছেন পরিবারগুলো।
নিহতদের বড় একটি অংশ মালাকা পরিবারের সদস্য। শুধু এই পরিবারটিই ৫৫ জন সদস্যকে হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বজনদের একটি 'পরিচিত ও যথাযথ কবরস্থানে' দাফন করার সুযোগ পাওয়ার জন্য পরিবারগুলো দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। তবে গাজার সব পরিবার এই সুযোগ পাচ্ছে না।
তার ভাষ্য, যুদ্ধের সময় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কবরস্থান ধ্বংস ও খুঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে অনেক পরিবার তাদের নিহত স্বজনদের মরদেহ যথাযথভাবে দাফন করতে পারেনি।
উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো কাফনে মোড়ানো থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোই ছিল পুরো মরদেহ নয়, বরং শরীরের বিভিন্ন অংশ বা হাড়ের টুকরো।
ওই এলাকায় কোনো পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে উদ্ধার ও দাফনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি এখনো বড় মানবিক সংকট হয়ে রয়েছে। বহু পরিবার এখনও জানে না, তাদের নিখোঁজ স্বজনদের কী পরিণতি হয়েছে কিংবা তাদের দেহাবশেষ কোথায় রয়েছে।
/এআই