×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি ইরানের, দাবি গোয়েন্দা সংস্থার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি ইরানের, দাবি গোয়েন্দা সংস্থার

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে বহু ফ্রন্টে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এমন দাবি করা হয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, এবার তা এড়াতে আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে সমন্বিত সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।

ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান নিজস্ব বাহিনীর পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজাভিত্তিক হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে একই অভিযানের আওতায় আনতে চাইছে।

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক ফ্রন্ট একই সময়ে সক্রিয় করা। অর্থাৎ উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্ব—বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে চাপ তৈরি করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করা।

উল্লেখ্য,  ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালায় হামাস। তবে ওই হামলার সময় ইরানপন্থি অন্য ফ্রন্টগুলো একই সময়ে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হয়নি।

গাজায় হামলার পর উদ্ধার করা হামাসের কিছু নথি থেকে জানা যায়, সংগঠনটির তৎকালীন প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে লেবানন, সিরিয়া ও সিনাইসহ অন্যান্য এলাকাকে যুদ্ধে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।

একটি পরিকল্পনা নথিতে বাইরের ফ্রন্টগুলোকে ‘সংযুক্ত ও প্রস্তুত’ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধকালীন সময়—উভয় ক্ষেত্রেই যোগাযোগের ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত মার্কিন ও ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইরান ও হিজবুল্লাহকে ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

ধারণা করা হয়, প্রাথমিক হামলা সফল হলে হিজবুল্লাহ ও ইরান পরবর্তী সময়ে বড় আকারের সংঘাতে যুক্ত হবে—এমন হিসাব করেছিলেন সিনওয়ার।  মূলত, হামাসের হামলার দিনই হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে গোলাবর্ষণ শুরু করলেও একইদিন সকালে বড় ধরনের প্যারালাল অভিযান চালায়নি।

আরব সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ৭ অক্টোবরের সেই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে উঠতেই এবার নতুন পরিকল্পনা করছে তেহরান।

এই পরিকল্পনায় একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সমন্বিত বহু-মুখী অভিযানকে এবার কৌশলের শুরু থেকেই অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

হামাসের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে সংগঠনটির সামগ্রিক নেতা নির্বাচিত হন খলিল আল-হাইয়া। ইরানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে হামাসের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন হিসেবেও পরিচিত তিনি।

গাজাভিত্তিক হামাস নেতৃত্বের এই অংশটি ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ঘনিষ্ঠ ছিল। ফলে হামাসের বর্তমান নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষটি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে নতুন করে সমন্বয় তৈরির উদ্যোগেরও কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের ওপর উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকে একসঙ্গে চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সমন্বয় করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর একটি প্রকাশিত মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে সমন্বয় শুরু করেছে।

হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াগুলোর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় সংঘাত আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এর আগে, উত্তেজনা কিছুটা কম থাকার সময়ে কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা তিন ফ্রন্টের কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে ইরানি সামরিক উপদেষ্টারা এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে মাঠপর্যায়েও কাজ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ওই সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরানপন্থি এই জোটের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যও বদলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের হুতিদের গুরুত্ব বেড়েছে বলে বিভিন্ন মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয় বাড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে ৭ অক্টোবরের আগের তুলনায় ইরানের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট এখন ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। বিশেষ করে ইরাক ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন এই আঞ্চলিক সমীকরণে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

তবে ইসরায়েলবিরোধী এমন সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগিয়েছে বা তা কার্যকর করার মতো সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

/এআই 

Logo