বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর ম্যাপ
মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন নিয়ে বাস্তবসম্মত মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ জাতিসংঘের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
এবার বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্র। পৃথিবীর মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন নিয়ে বাস্তবসম্মত মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। এতে করে সামনে আসবে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন। যার ফলে প্রকৃত আয়তন অনুযায়ী মানচিত্রে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার চেয়ে মহাদেশটিকে বড় দেখাবে। আর জাতিসংঘের এই প্রস্তাবে সর্মথন জানিয়েছে বাংলাদেশসহ দেড়শতাধিক দেশ। একমাত্র বিরোধিতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ, চলমান সংকট নিরসনে কাজ না করে ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে পড়ে আছে জাতিসংঘ।
মূলত, যে মানচিত্রে বছরের পর বছর আফ্রিকাকে ছোট আর ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার আকার বড় দেখানো হয়েছে, বদলে যাচ্ছে সেই চিরচেনা ভূচিত্র। এবার সংশোধিত মানচিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ।
নতুন এই মানচিত্রে আফ্রিকা ও অন্যান্য মহাদেশকে তাদের প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি দেখানোর প্রস্তাব পাস হয়েছে বিপুল সমর্থনে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ সহ ১৬৪ টি দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ছয় দেশ। তবে উদ্যোগে একমাত্র দেশ হিসাবে বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ, জাতিসংঘের উচিত বর্তমানের বৈশ্বিক সংকট নিয়ে কাজ করা, ১৬ শতকের মানচিত্র নিয়ে নয়।
নতুন এই মানচিত্রের নাম ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন। এর লক্ষ্য বিশ্বের মহাদেশগুলোর আয়তনকে তুলনামূলকভাবে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা।
কিন্তু কেন বদলানোর প্রয়োজন হলো পুরোনো মানচিত্র? ১৫৬৯ সালে তৈরি মারকেটর প্রজেকশন নেভিগেশনের মানচিত্রে পৃথিবীর ত্রিমাত্রিক গোলককে দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে দেখানো হয়। এতে করে উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখায়। আর আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চলকে দেখা যায় বাস্তবের চেয়ে ছোট।
বাস্তবে আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। কিন্তু পৃথিবীর প্রচলিত মানচিত্র অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ডকেও আফ্রিকার প্রায় সমান বড় মনে হয়। তাই আফ্রিকাসহ অন্য সব মহাদেশের প্রকৃত অবস্থান ও আয়তন বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের প্রায় সব সদস্য দেশই।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে বলেন, বৈশ্বিক ন্যায্যতার শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে। আফ্রিকার প্রকৃত আকার মানুষকে সঠিকভাবে জানানো এবং বোঝানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এটি কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা নয়; বরং প্রতীকী ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার বাস্তবসম্মতভাবে আয়তন ফুটে উঠবে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে পুরোনো মারকেটর মানচিত্র বাদ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
/এমএইচআর