আল জাজিরার প্রতিবেদন
৯ মাস পর ফিলিস্তিনি কিশোরের মরদেহ ফেরত দিচ্ছে ইসরায়েল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার নয় মাসেরও বেশি সময় পর ১৫ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে, পশ্চিম তীরের আল-ফারায়া শরণার্থী শিবিরে, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় নিহত হয় ওই কিশোর।
ফিলিস্তিনিদের শহীদদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় প্রচারণা কমিটি জানিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম জাদাল্লাহ জিহাদ জুমা জাদাল্লাহ। সে তুবাসের আল-ফারায়া শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিল।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর, শরণার্থী শিবিরটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয় জাদাল্লাহ। এরপর থেকেই তার মরদেহ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে ছিল।
আদালতে আবেদন, এরপর মরদেহ ফেরতের সিদ্ধান্ত
জাদাল্লাহর মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে, গত মার্চে, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনে কিশোরটির মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে মামলার শুনানিতে ইসরায়েলি কৌঁসুলিদের জবাব দেওয়ার জন্য আদালত একাধিকবার অতিরিক্ত সময় দেয়। আদালতকে জানানো হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাদাল্লাহর মরদেহ হস্তান্তর করবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে ঠিক কোন তারিখে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে, তা জানানো হয়নি।
ফিলিস্তিনি ওই প্রচারণা কমিটি বলছে, নয় মাসেরও বেশি সময় মরদেহ আটকে রাখার কারণে জাদাল্লাহর পরিবার তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানানো এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই জাদাল্লাহর মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।
প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরায়েলের হেফাজতে
বুধবার প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে ফিলিস্তিনিদের শহীদদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় প্রচারণা কমিটি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭শ' ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১৮ বছরের কম বয়সী ৮১ শিশুর মরদেহ। ইসরায়েলি কারাগারে মারা যাওয়া ৯৯ ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ১০ নারীর মরদেহ। এছাড়া আরও ২৫৬টি মরদেহ তথাকথিত ‘নাম্বার কবরস্থানে’ রাখা হয়েছে। এসব কবর কোনো নাম দিয়ে চিহ্নিত করা হয় না; কেবল একটি নম্বর দেওয়া থাকে। সেখানে দাফন করা ব্যক্তিদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকে।
মরদেহ আটকে রাখার নীতিতে ইসরায়েলি আদালতের রায়
ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখার ইসরায়েলি নীতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ফিলিস্তিনিদের মরদেহকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আটকে রাখার অনুমতি দেয়।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেও এই নীতি সম্প্রসারিত করা হয়।
ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি গভীর বেদনার কারণ হয়ে আছে। অনেক পরিবারকে তাদের নিহত স্বজনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জাদাল্লাহর মরদেহ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই তার পরিবারের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেও, ফিলিস্তিনি পক্ষের হিসাবে ইসরায়েলের হেফাজতে থাকা আরও বিপুলসংখ্যক মরদেহের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
/এআই