×
Logo

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন ১০ বিলিয়ন ডলারের সোনা ব্রিটেনে সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন ১০ বিলিয়ন ডলারের সোনা ব্রিটেনে সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস?

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা নিজেদের সোনার মজুদের বড় একটি অংশ সরিয়ে ব্রিটেনে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে যেন সোনার মজুদ দ্রুত ব্যবহার করা যায়, সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি) বুধবার জানিয়েছে, সোনার মজুদের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তারা ‘তীব্র সংকট মোকাবিলায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুত’ হতে চায়। তবে ঠিক কোন ধরনের সংকটের কথা তারা বলছে, তা স্পষ্ট করেনি ব্যাংকটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে তীব্র বিরোধে জড়িয়েছে। পাশাপাশি ইরানে যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলা ও কিউবাকে ঘিরে সামরিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এসবের পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে।

ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুদের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এগুলো আরও সহজে বাজারে লেনদেনযোগ্য হয়েছে। তার ভাষ্য, সোনার মজুদ কখনো ব্যবহার করতে না হয়, এটাই প্রত্যাশা। তবে একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

নেদারল্যান্ডসের কত সোনার মজুদ আছে?

নেদারল্যান্ডসের কাছে মোট ৬১২ দশমিক ৪ টন সোনা রয়েছে। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো বা ৮৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

সম্ভাব্য আর্থিক সংকটের সময় নিয়মিত ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে এই সোনার মজুদ নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশ সাধারণত নিজেদের সোনার মজুদ একাধিক দেশে ও স্থানে ভাগ করে রাখে। নেদারল্যান্ডসও এতদিন নিজেদের সোনা দেশটির জেইস্ট শহরের ক্যাশ সেন্টার এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে সংরক্ষণ করে আসছিল।

সাম্প্রতিক স্থানান্তরের আগে নেদারল্যান্ডসের সোনার মজুদের—

৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল জেইস্টে

১৮ দশমিক ১ শতাংশ ছিল লন্ডনে

৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে

১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল অটোয়ায়

উত্তর আমেরিকা থেকে যুক্তরাজ্যে সোনা সরানোর পর এই অনুপাত দাঁড়িয়েছে—

জেইস্টে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ

লন্ডনে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ

নিউইয়র্কে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ

অটোয়ায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ

অর্থাৎ, নেদারল্যান্ডস এখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার তুলনায় লন্ডনে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ সোনা রাখছে।

কীভাবে সরানো হয়েছে এই সোনা?

স্থানান্তর করা সোনার মূল্য ২০২৫ সালের শেষ দিকে ছিল প্রায় ১০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ইউরো বা ১১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। বুধবার বিকেল ৩টা নাগাদ নেদারল্যান্ডসে এর মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ইউরোতে।

ডিএনবি জানিয়েছে, দুটি পদ্ধতিতে সোনার মজুদ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

প্রথমত, নিউইয়র্কে প্রায় ৫৯ টন সোনা বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। এই সোনার মূল্য ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা সরাসরি নেদারল্যান্ডসে নেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাজারের মানসম্পন্ন সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে।

এর ফলে পুরোনো সোনার বারগুলো নতুন করে গলানোর প্রয়োজন হয়নি।

ডিএনবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মূল্য ধরে নিউইয়র্ক থেকে মোট প্রায় ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সোনা সরানো হয়েছে। আর কানাডার অটোয়া থেকে সরানো হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি মূল্যের সোনা।

ডিএনবি বলছে, নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশেই এখন নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে রাখা হয়েছে।

কেন দুটি পদ্ধতিতে সোনা সরানো হলো?

ডিএনবির ভাষ্য, সোনা বিক্রি করে অন্য জায়গায় কেনা এবং একই সঙ্গে সরাসরি সোনার বার স্থানান্তর—দুই পদ্ধতি ব্যবহার করায় এত বড় একটি কার্যক্রমের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এতে সময় ও খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি আরও বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো সংকটের সময় আবার সোনার অবস্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। তখন পরিস্থিতির কারণে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব না হলে অন্য পদ্ধতি কাজে লাগানো যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন সোনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?

ডিএনবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, তারা নিজেদের সোনার মজুদকে ‘সহজে লেনদেনযোগ্য’ রাখতে চায়। আর এ ক্ষেত্রে লন্ডনকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে তারা।

এছাড়াও, লন্ডনে বেশি সোনা রাখলে এটি ‘আস্থার ভিত্তি’ হিসেবে আরও কার্যকর হবে। চরম মাত্রার বৈশ্বিক আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সোনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ সম্পদগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যাংকটির মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ায় থাকা সোনা এ ধরনের পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

তবে ‘সিস্টেমিক ঝুঁকি’ বলতে ঠিক কী ধরনের ঝুঁকি বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি ডিএনবি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও কি কারণ?

নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কানাডা থেকে অনেক কম সোনা সরিয়েছে। এ কারণে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগও সিদ্ধান্তটির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টার-এর প্রেসিডেন্ট লরাঁ শোয়ার্টজ ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাদের সোনা সংরক্ষণের জন্য অন্য স্থান বেছে নিতে উৎসাহিত করতে পারে। এর পেছনে কয়েকটি বিষয় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধ

২০২৫ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে তীব্র বাণিজ্য বিরোধ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার ইস্পাত-অ্যালুমিনিয়াম-গাড়ি খাতে শুল্ক আরোপ করে।

এরপর চলতি বছরের আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন।

জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এসব শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ এবং তা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

ইরান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা

এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এখনো চলমান। এর পাশাপাশি কিউবাকে ঘিরে সামরিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে বিচার চলছে। এরপর ভেনেজুয়েলার তেল খাতের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন চুক্তিও করেছে।

ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এবং ইরানের যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের সম্পর্কও আগের তুলনায় বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত বছর, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ এবং এ বিষয়ে আপত্তি জানানো ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন শুল্কের হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে সংকট দেখা দিলে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার আহ্বান জানান।

ফ্রান্স ইসরায়েলি অস্ত্রবাহী বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার পর এবং ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানকে সিসিলিতে অবতরণের অনুমতি না দেওয়ার পরও উত্তেজনা বাড়ে। স্পেনও ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না। পরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘আগের মতো নেই’।

রাশিয়ার সম্পদ জব্দের ঘটনাও কি প্রভাব ফেলেছে?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা রিজার্ভ কতটা নিরাপদ—এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে ভাবনা তৈরি হওয়া।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ জব্দ করে।

রাশিয়ার মোট প্রায় ৬৪০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সম্পদের প্রায় অর্ধেকই এর আওতায় পড়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি সম্পদ জব্দ করার ক্ষমতা আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের ছিল। তবে এত বড় পরিসরে, বিশেষ করে জি২০-এর একটি পরমাণু শক্তিধর দেশের রিজার্ভ জব্দের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি-৭ দেশগুলো এসব জব্দ করা সম্পদ থেকে পাওয়া মুনাফা ব্যবহার করে ইউক্রেনের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ জব্দের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে প্রতি ছয় মাস পরপর নিষেধাজ্ঞা নবায়নের প্রয়োজনও থাকল না।

এর ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন হয়তো হিসাব করছে, অন্য কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিজেদের রিজার্ভ রাখলে, সেই দেশের সরকার বা নেতৃত্ব ভবিষ্যতে অনির্দেশ্য আচরণ করলে সম্পদ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এর আগে কি অন্য দেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়েছে?

নেদারল্যান্ডস এ বছর প্রথম দেশ নয়, যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের সোনার মজুদ সরিয়েছে।

জানুয়ারিতে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা ১২৯ টন সোনা, যার মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার, ফ্রান্সে ফিরিয়ে নেয়।

ব্যাংকটি জানিয়েছিল, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আরও ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ: এই দুই কারণেই সোনা সরানো হয়েছে। নিউইয়র্কে সোনা বিক্রি করে প্যারিসে নতুন সোনার বার কেনার মাধ্যমে স্থানান্তরটি সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জার্মানি নিউইয়র্ক থেকে ৬০০ টনের বেশি সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে নেয়। সেই সোনার বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে, নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে শুধু সোনার মজুদের স্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং বিশ্ব রাজনীতিতে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং বিদেশে রাখা রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

/এআই 

Logo