×
Logo

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ‘ছবির দেয়ালেই’ শেষ আশ্রয় নেপালিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ‘ছবির দেয়ালেই’ শেষ আশ্রয় নেপালিদের

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের দেয়ালে টানানো শত শত ছবিতে চোখ রাখছেন স্বজনরা। কারও ছবির পাশে নিখোঁজের তথ্য, আবার কোনো ছবির নিচে রয়েছে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষার কথা। প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন তারা।

হারানো স্বজনের খোঁজে ভিড় করাদের এমনই একজন সাতি সিগদেল। যিনি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের সেই দেয়ালে প্রতিদিন ছুটে আসছেন নিখোঁজ চাচাতো বোন সুইটি পাইথানের সন্ধানে। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালটিতে ঘুরছেন তিনি। বলেন, তিন দিন আগে আমরা তার ছবি এখানে লাগিয়েছি। কিন্তু এখনো তার কোনো খোঁজ পাইনি।

গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার ২০০ জনেরও বেশি। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে পাহাড়ি নেপালের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন স্বজনকে হাসপাতালের দেয়ালে টানানো ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতে দেখা যায়। কেউ কেউ আশপাশের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে নিখোঁজ স্বজনের নাম উল্লেখ করে কোনো তথ্য পেয়েছেন কি না জানতে চাইছিলেন।

নিখোঁজ মামার পরিবারের চার সদস্যের সন্ধানে সেখানে এসেছিলেন সপ্না নিউপানে। তিনি বলেন, আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি। হাজার হাজার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, প্রতিটি ছবি দেখে স্বজনকে খোঁজা— এটা খুবই কঠিন।

দেয়ালে টানানো ছবিগুলোর সঙ্গে রয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, বিস্তারিত তথ্য ও যোগাযোগের নম্বর। কোথাও আবার ছবির নিচে হাতে লেখা কয়েকটি তথ্য। একটি ছবির ওপরে বড় করে লেখা ‘নিখোঁজ’। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক তরুণের বাঁ হাতে থাকা ট্যাটুর ক্লোজআপ— সম্ভবত পরিচয় শনাক্তে সহায়তার জন্যই এমন ছবি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে দেখা গেছে আরও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও স্বজনের সন্ধান না পেয়ে কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত প্রতীকী মরদেহ হিসেবে খড়ের তৈরি প্রতিকৃতি দাহ করছেন।

২১ বছর বয়সী সাবিনের সন্ধান না পেয়ে এমনই একটি প্রতিকৃতি দাহ করেন তাপিন্দ্র প্রসাদ তিমালসিনা। হিন্দু পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে স্বজনরা প্রতিকৃতিতে পানি ঢেলে দেন। পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় চিতায়— যে আচার সাধারণত মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যেই পালন করা হয়।

তবে সিগদেলের আশা এখনো শেষ হয়নি। সোমবার থেকে প্রতিদিন স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসপাতালের সেই ছবির দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। সিগদেল বলেন, আমি প্রতিদিন স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসি। আশা করি, কোনো না কোনো খবর পাব।

রয়টার্স অবলম্বনে

/এনএ 

Logo