বৃষ্টি ও ধসে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডে ৭ জনের মৃত্যু, বন্ধ ১৭২ সড়ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়পা বান এবং একের পর এক ভূমিধসে ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কবলে পড়ে রাজ্যটিতে ইতোমধ্যেই শিশু ও নারীসহ অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সাথে পার্শ্ববর্তী উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডেও বন্যা ও হড়পা বানের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরের দুটি জাতীয় মহাসড়কসহ মোট ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
টিহরীতে ৩৪ নম্বর এবং বাগেশ্বরে ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বড় অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে গোলা নদী থেকে ২৭ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়ায় হলদোয়ানী ও উধম সিংহ নগরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খকরা নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন।
দুর্যোগে পৌড়ীর কোটদ্বারে নদীর তোড়ে ভেসে মারা গেছেন মা ও তার দেড় বছরের কন্যাসন্তান। অলমোড়ার হবালবাগে বসতবাড়ি ধসে নিহত হয়েছেন দুই নারী ও এক শিশু। এছাড়া ধারের টুনি এলাকায় ধসের নিচে চাপা পড়ে দুই নেপালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নৈনীতাল, চম্পাবত, উধম সিংহ নগর ও পিথোরাগড়ে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বারাণসীর ঐতিহাসিক ৮৪টি ঘাটই পানিতে তলিয়ে গেছে। চিত্রকূটের মন্দাকিনী নদী ফুঁসে ওঠায় রামঘাট ও নির্মোহী আখড়াসহ আশপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, প্রতাপগড়ে ১৪৭ মিলিমিটার এবং সোনভদ্রে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যের ২০টিরও বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে ব্যাপক হড়পা বানের পূর্বাভাস জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। গরওয়া, পলামু, লাতেহার, সিমডেগাসহ ১০টি জেলায় এই সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে গরওয়া, পলামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ‘লাল সতর্কতা’ জারি রয়েছে।
/এএ