মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে খালি পায়ে ম্যারাথন জিতলেন মা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ফিনিশিং লাইনের ওপারে ছিল পুরস্কারের হাতছানি। প্রাইজ়মানি ৩ হাজার রুপি! টাকাটা পেলে মেয়েদের বই কেনা আর পড়াশোনার কিছু খরচ মেটানোর সুবর্ণ সুযোগ। হাতছাড়া করেননি মা। স্পোর্টস শু-ট্র্যাকস্যুট নেই, তো কী হয়েছে? শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথনে অংশ নিলেন ৪৭ বছর বয়সী রমাবাই রণবীর। বয়সের ভার, প্লাস্টিকের চপ্পল কিংবা কর্দমাক্ত রাস্তা কোনো কিছুই থামাতে পারেনি মাকে। মায়েরা হারতে জানে কি?
সোমবার (৩১ আগস্ট) একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার আম্বাজোগাই এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল আড়াই কিলোমিটারের এই ‘অমৃত দৌড়’। ম্যারাথনে অংশ নেন কয়েকশ' তরুণ-তরুণী। অংশ নেন বীড় জেলার বাসিন্দা রমাবাইও।
সাধারণ প্রতিযোগী হিসেবে রমাবাই ট্র্যাকে নেমে পড়েন। তিনি পরেছিলেন সাধারণ শাড়ি, পায়ে ছিল চপ্পল। অথচ তার পাশ দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছিলো স্পোর্টস শ্যু পরা বাহারি পা। রমার তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। তাকে যে ম্যারাথন জিততেই হবে।
দৌড় শুরুর পর চপ্পল বারবার খুলে যাওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল গতি। একপর্যায়ে স্যান্ডেল খুলে বুকের কাছে ধরে খালি পায়েই দৌড়াতে থাকেন তিনি। পথের পাথর, কাদাজল ও শাড়ি সামলে দৌড়ানো দুস্তর হলেও থামেননি অদম্য নারী।
প্রবল মনোবল নিয়ে শেষ পর্যন্ত সবার আগে ফিনিশিং লাইন টাচ করেন। আশপাশের ব্যঙ্গ করা মুখগুলো অতিক্রম করেন। ম্যারাথনে জয়ী হন রমাবাই। ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মতো বুকের কাছে আঁকড়ে ধরেন প্লাস্টিকের চপ্পল।
জানা যায়, অতিসাধারণ এক পরিবারে জন্ম রমাবাই রণবীরের। কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। কৃষিনির্ভর পরিবার, অনটনের সংসারে সেটা যথেষ্ট নয়। দুই মেয়ের পড়াশোনা চালাতে তাই বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয় রমাকে। বাড়তি উপার্জনের সুযোগ পেলে সেটিও করেন। যাতে অভাবের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা থামিয়ে দিতে না হয়।

রমাবাইয়ের এই সাফল্যে শুভানুধ্যায়ীরা উচ্ছ্বসিত হন, অভিনন্দন জানান। তবে তার কাছে এটি নিছক একটি জয় নয়, এই জয়ের মাহাত্ম্য অনেক। এই জয় মেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটাবে। বক্রহাসির বিপক্ষে এই জয় ঝর্ণার ছন্দ ছড়াবে।
পুরস্কারের অর্থ মেয়েদের বই কেনা, টিউশন ফি আর শিক্ষার খরচে ব্যবহার করবেন বলে জানান রমাবাই। তার এই অসাধ্য সাধন শুধু ব্যক্তিগত সফলতার গল্প নয়, বরং তা একজন মায়ের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের আখ্যান। এই আখ্যানের ‘অমৃত দৌড়’ চলতে থাকুক..
/এএম