কৈলাশ তীর্থযাত্রায় গিয়ে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ এএম
কৈলাশ মানসরোবর যাত্রায় গিয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় তীর্থযাত্রী
জীবনের বহু আকাঙ্ক্ষিত কৈলাশ মানসরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপাল-তিব্বত (চীন) সীমান্তে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বানের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী। নেপাল সরকারের প্রকাশিত সামগ্রিক তালিকায় দুর্যোগে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩৭ জনে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার ৪৩ বছর বয়সী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শুভ্রশ্রী চক্রবর্তী এবং ৫৪ বছর বয়সী গৃহশিক্ষিকা রীনা ব্যানার্জি। গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি দলের সাথে রওয়ানা দিয়েছিলেন শুভ্রশ্রী। কাঠমান্ডু হয়ে ২৫ আগস্ট তারা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পৌঁছান সীমান্তের প্রবেশদ্বার স্যামব্রুবেশিতে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে নেপাল ইমিগ্রেশনের ডিপার্চার সিলসহ নিজের পাসপোর্টের ছবি স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান শুভ্রশ্রী। এরপর সকাল ৮টা ৩ মিনিটে পাঠান শেষ বার্তা—আমরা চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় আছি। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে শুরু হয় প্রলয়ংকরী হড়পা বান ও ভূমিধস। এরপর থেকেই তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
একই দলের সদস্য রীনা ব্যানার্জির পরিবারও চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি সীমান্তের নেপাল অংশে ছিলেন নাকি চীনের গ্যিরং ইমিগ্রেশন পার হয়ে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। দলটির সাথে থাকা ট্যুর অপারেটর বা ম্যানেজমেন্টের কারও ফোনেই সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো চীন ও নেপাল সরকারের কাছে অবিলম্বে উদ্ধারকৃত, নিখোঁজ ও হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের এমন হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের ফেলে দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও বিনিদ্র রাতের অপেক্ষায়।
/এএ