নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার কারণ কী?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বুধবার ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু, বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক শত মানুষ।
কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, এখন পরিস্থিতিই বা কেমন— চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কী ঘটেছে?
নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বন্যার পানিতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প তলিয়ে গেছে। এর প্রভাবে একটি বড় ধরনের কাদাধস (ভূমিধস) নেমে আঘাত হানে তিব্বতের সঙ্গে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর গিরং পোর্টে।
কাদাধসের কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যায় আহতও হয়েছেন বহু মানুষ।
কী কারণে এই বিপর্যয়?
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের পর নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নামে। এর ফলে নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
লেন্দে খোলা নদীটি নেপাল ও তিব্বত— উভয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের হিমালয় অঞ্চলে নেমে আসা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নদীতীরবর্তী গ্রাম ও বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ভেসে যায়। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা
এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০৩ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ৪৭ জন মার্কিন নাগরিক এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজদের তালিকায় আরও রয়েছেন ১৭ জন মালয়েশীয়, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক।
বিপদ কি কেটে গেছে?
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বড় বাধা বা ধস জমে থাকায় যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে নেপালের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা বেশ কয়েকটি নদী এসব রাজ্যের সমতলভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন পরিস্থিতি কেমন?
নেপালের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। তবে বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান কতটা এগিয়েছে?
চীন গিরং স্থলবন্দরে অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তবে বন্যার পানির সঙ্গে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কাদা ও পলি উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে আরও কয়েকটি দেশ। প্রতিবেশী ভারত জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেপালের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে তারা।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারি কর্মকর্তা, দমকল ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কুইক রেসপন্স টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।