কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড; সামনে আসছে একের পর এক অব্যবস্থাপনার তথ্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর একের পর এক অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ভবনে গাদাগাদি করে একাধিক হোটেল গড়ে উঠেছিল। ভবনে ছিল সরু সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত বাতাস চলাচল এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় দফতরের খুব কাছে দুর্ঘটনাস্থল হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত ক্ষয়ক্ষতি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে, হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র পলাতক রয়েছেন। আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে, তাদের পরিচয় জানানো হয়নি। ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল-সিটও কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনটিতে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে সেখানে গাদাগাদি করে অতিথিদের রাখা হতো। প্রায় ১১'শ বর্গফুট জায়গায় শিখা ইন-এর জন্য পাঁচটি ঘর তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির সরু সিঁড়ি, বের হওয়ার পথের সমস্যা এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাবের বিষয়গুলো সঙ্গে অনেক কক্ষে জানালাও ছিল না বলে জানা যায়। ফলে আগুনের সময় ভবনটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।
ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য নেতা কৌস্তব চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া, তিনি নিউ মার্কেট থানায় পোস্টিং নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কলকাতায় আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যটন দফতর, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক দফতর ও পুরসভা কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। মরদেহ শনাক্তের পর ময়নাতদন্ত চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বৃহস্পতিবারই (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হতে পারে।
বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি আহত কেউ আছেন কি না, তা খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ডেপুটি হাইকমিশনার নিজেও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর আশপাশের আরও হোটেল ও রেস্তোরাঁর দিকেও নজর দিয়েছে কলকাতা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।
/এএন