×
Logo

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় প্রসবের সময় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, টর্চের আলোয় জন্ম নিলো ‘গেম্পিতা’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

ইন্দোনেশিয়ায় প্রসবের সময় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, টর্চের আলোয় জন্ম নিলো ‘গেম্পিতা’

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে যখন ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, ভবন ও সেতু ধসে পড়ছে, তখন হাসপাতালের কাঁপতে থাকা কক্ষে সন্তানের জন্ম দিচ্ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মারিয়া ফ্লোরিডা নোগো কেলেন। ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেই, চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এই মা।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি নেগেকেও অঞ্চলের বাসিন্দা মারিয়া। শনিবার ইস্ট নুসা তেংগারা প্রদেশে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার মধ্যেই জটিল গর্ভাবস্থার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস আগেই সন্তান প্রসব করাতে হয় মারিয়াকে। গর্ভাবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় মা ও শিশু—দুজনের জীবনই ঝুঁকিতে ছিল। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, প্রসব আরও দেরি হলে মারিয়ার প্রাণঘাতী খিঁচুনি হতে পারে।

ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে হাসপাতাল ভবন যখন মুহূর্তে মুহূর্তে কেঁপে উঠছিল, তখন বিদ্যুৎও ছিল অনিয়মিত। ফলে চিকিৎসকদের টর্চের আলো ব্যবহার করেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়।

মারিয়া বলেন, 'অস্ত্রোপচারের সময় আমি ভয় পাইনি। আমার সন্তানদের জন্য আমাকে সুস্থ থাকতে হতো। তাই মনে সাহস ছিলো।'

মারিয়ার ডাক্তার ইয়োনা সারা পারদেদে বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চিকিৎসকদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি বলেন, 'মানুষ হিসেবে আমরাও ভয় পেয়েছিলাম। শিশুটি ছোট হওয়ায় অস্ত্রোপচারটি কঠিন ছিল। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের কাছে ভেন্টিলেটরও ছিল না।'

শেষ পর্যন্ত জন্ম নেয় মারিয়ার কন্যাসন্তান। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৩ কেজি। ভূমিকম্পের ইন্দোনেশীয় শব্দ ‘গেমপা’ থেকে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘গেমপিতা’।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০২২ সালের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবারের ভূমিকম্পে ইস্ট নুসা তেংগারা প্রদেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভূমিকম্পে শত শত বাড়ি ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় আহতদের তাঁবুর মধ্যেই চিকিৎসা দিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

সোমবারও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গত এলাকায় বিমানযোগে ত্রাণও পাঠানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পের পর পরাঘাতের আতঙ্কে অনেক বাসিন্দাই ঘরে ফিরতে সাহস করছেন না। তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের অনেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটের কথা জানিয়েছেন।

সন্তান জন্ম দেওয়ার পর রক্তক্ষরণে ভুগেছেন মারিয়াও। তবে ভয়াবহ সেই রাত পেরিয়ে বেঁচে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।

মারিয়া বলেন, 'আমি চিকিৎসকদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ। এমনকি যখন কক্ষটি কেঁপে উঠছিল, তারা আমাদের ছেড়ে যাননি।' 

/এআই 

Logo