দ্য হিলের প্রতিবেদন
নাবিকদের দুরবস্থার অভিযোগের মধ্যেই মার্কিন রণতরী পরিদর্শনে সেন্টকম কমান্ডার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৬০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
রণতরীটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই শনিবার (১৫ আগস্ট) তিনি এটি পরিদর্শন করেন।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুপার ১০ দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে লিংকনে যান। এ সফরে তিনি বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সফর করেন।
পরিদর্শন শেষে কুপার বলেন, 'লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অত্যন্ত দক্ষ ও সাফল্য অর্জনকারী মার্কিনদের একটি শক্তিশালী দল। তারা যা অর্জন করেছে, তা নিয়ে তাদের গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে এই মোতায়েনকে আধুনিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সেন্টকমের দাবি, লিংকনে থাকা নাবিক ও মেরিন সদস্যরা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, আঞ্চলিক নিরাপত্তা মিশন এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধে সহায়তার জন্য শত শত যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছেন।
প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটির মোতায়েনের মেয়াদ শুরুতে মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হুং কাও জানান, মিশনের প্রয়োজনেই এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতেও লিংকন পরিদর্শন করেছিলেন কুপার। সেসময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি মিশনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তখন সেন্টকম জানিয়েছিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই রণতরীটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে সম্প্রতি লিংকনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর রণতরীটি নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে নোংরা ও ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, পচা খাবারসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে আসে। এমনকি কয়েকজন নাবিক বিমানবাহী রণতরী থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার হুং কাও ঘোষণা দেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে। এর পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে দায়িত্ব নেবে।
তবে লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কাও। তার দাবি, এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে মার্কিন সেনাসদস্যদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, জাহাজটির পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের মোতায়েন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগোও কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালের সঙ্গে যোগ দিয়ে লিংকনে আনুষ্ঠানিক ও দ্বিদলীয় কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দল পাঠানোর দাবি জানান।
/এআই