×
Logo

আন্তর্জাতিক

আরব নিউজের প্রতিবেদন

অক্সিজেনের অভাবে বিপর্যয়ের মুখে গাজার হাসপাতাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

অক্সিজেনের অভাবে বিপর্যয়ের মুখে গাজার হাসপাতাল

অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার পথে গাজায়। উপত্যকার ৩৪টি অক্সিজেন স্টেশনের মধ্যে ২২টিই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের পাশাপাশি বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া অক্সিজেননির্ভর রোগীরাও ক্রমেই বড় ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গাজায় এখন মাত্র ১২টি অক্সিজেন স্টেশন সচল রয়েছে। তবে সেগুলোও ‘অত্যন্ত জটিল কারিগরি ও যান্ত্রিক পরিস্থিতির’ মধ্যে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে প্রকৌশলীরা জরুরি মেরামতের কাজও করতে পারছেন না।

এরই মধ্যে বহনযোগ্য অক্সিজেন সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গাজায় থাকা ৩০টি অক্সিজেন ফিলিং ডিভাইসের মধ্যে মাত্র ৪টি বর্তমানে সচল। জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম না থাকায় এগুলোও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, অক্সিজেন কোনো চিকিৎসা-সুবিধা বা বিলাসিতা নয়; অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম এটি। অবশিষ্ট অক্সিজেন অবকাঠামোও যদি অচল হয়ে পড়ে, তাহলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অক্সিজেননির্ভর রোগীদের সরবরাহও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অক্সিজেন স্টেশনগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ ও কারিগরি সরঞ্জাম অবিলম্বে গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নতুন অক্সিজেন ইউনিট দ্রুত সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই ভয়াবহ চাপের মধ্যে রয়েছে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ব্যাপক হামলায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে নানা বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে।

গত ১২ আগস্ট, চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা এমএসএফ সতর্ক করে, ইঞ্জিনের তেল ও খুচরা যন্ত্রাংশ প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ হাসপাতালের জেনারেটর, অ্যাম্বুলেন্স ও পানি সরবরাহব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এমএসএফ জানায়, তাদের কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এক মাস চালানোর মতো ইঞ্জিনের তেলও নেই। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ ও নতুন জেনারেটর গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

গত ৫ আগস্ট, দেইর আল-বালাহ'র একটি ফিল্ড হাসপাতালে এমএসএফের একটি জেনারেটর বিকল হয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ ব্যবহারে রেশনিং করতে বাধ্য হন কর্মীরা। শুধু সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য অপারেশন থিয়েটার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জীবাণুমুক্তকরণ ও এক্স-রে সেবাও ব্যাহত হয়।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জেনারেটর বিকল হলে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, অক্সিজেন জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল রোগী এবং জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন থাকা মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও গাজার ক্ষয়প্রাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ আগস্ট দেইর আল-বালাহ'র আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের কাছে ওষুধ সংরক্ষণের দুটি গুদাম ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই গুদামগুলোতে ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত সামগ্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত ছিল।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজায় পণ্য প্রবেশের জন্য বর্তমানে কেরেম শালোমই একমাত্র সচল সীমান্তপথ। তবে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে এখনও নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।

/এআই 

Logo