×
Logo

আন্তর্জাতিক

'হরমুজ কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, তা শুধু ইরানের নির্দেশেই নির্ধারিত হবে'

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

'হরমুজ কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, তা শুধু ইরানের নির্দেশেই নির্ধারিত হবে'

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘দুষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে চলমান সংঘাতের কারণে আমেরিকানদের জ্বালানির বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল; দুটিই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, তা শুধু ইরানের নির্দেশেই নির্ধারিত হবে।’ 

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেবে এবং ‘কল্পনার জগতে’ থাকা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর রাখবে তেহরান।

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি হুমকিমূলক পোস্ট, একটি বিমানবাহী রণতরী, কোনো নির্দেশ জারি কিংবা নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।’

চলতি বছরের, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে বিশ্বের মোট তেল রফতানির প্রতি পাঁচ ব্যারেলের একটি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকির কথা বারবারই উল্লেখ করে আসছেন ট্রাম্প।

তবে জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ছে। একইসঙ্গে, বিষয়টি ভোটারদের মধ্যেও হতাশা তৈরি করছে। 

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার। এক বছর আগে, এই দাম ছিল ৩ দশমিক ১৬ ডলার, অর্থাৎ এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে একটি শস্যবাহী জাহাজ ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং অপরটি খালি অবস্থায় বিপরীত দিকে গেছে।

কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে নজরদারি এড়িয়ে প্রণালি অতিক্রম করতে পারে। তারপরও যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যে ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত, বর্তমান পরিস্থিতি তার তুলনায় একেবারেই ভিন্ন।

ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ ধরনের জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। পরে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, শুক্রবার আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

/এআই 


Logo