ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ এএম
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। পাশাপাশি এর কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আরও দুটি আফটারশক অনুভূত হয়। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এন্দে শহরের একটি হাসপাতালের কর্মী ৩১ বছর বয়সী লুকাস লোটার বলেন, হঠাৎ করে সবকিছু কাঁপতে শুরু করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের রোগীরাও বাইরে বেরিয়ে আসেন। কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি)। সংস্থাটি বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো বলেন, ভূমিকম্পের মডেলিংয়ের ফল অনুযায়ী পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে সুনামি আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য সুনামির ঢেউ ০ দশমিক ৫ মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের বাসিন্দারা উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন। স্থানীয় এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সেখানে সমুদ্রের পানি কিছুটা সরে যেতে দেখা গেছে, যা সম্ভাব্য সুনামির আগে প্রায়ই দেখা যায়।
ইন্দোনেশিয়ার টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী নাগেকেও রিজেন্সিতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইতোমধ্যে ১৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা ভূখণ্ডে কোনো সুনামির হুমকি নেই।
/এনএ