যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একদিনে ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে ১৩টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৯টি।
তবে একদিনে চলাচল বাড়লেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের সংখ্যা এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। চলমান সংঘাত এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাতটি জাহাজ আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ছয়টি জাহাজ সেখান থেকে বের হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি জাহাজ ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।
চলাচল করা ১৩টি জাহাজের মধ্যে দুটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত, তিনটি ‘শ্যাডো’ বা পরিচয় গোপন করে চলাচলকারী জাহাজ এবং আটটি অন্যান্য জাহাজ ছিল বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য থেকে জানা গেছে।
বাব এল-মান্দেবেও বেড়েছে চলাচল
একইদিনে, লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। সেখানে মোট ২৯টি জাহাজ চলাচল করেছে।
এর মধ্যে ১৮টি জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে এবং ১১টি বের হয়েছে। দুটি জাহাজের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বাব এল-মান্দেব দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং দুটি ‘শ্যাডো’ জাহাজ ছিল। ওই দিন নতুন করে কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্বাভাবিকের তুলনায় এখনও অনেক কম
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগস্টের দৈনিক গড় প্রায় ১২টি পণ্যবাহী জাহাজেরও নিচে ছিল। জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতার কারণেও জাহাজ চলাচল কম রয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৯টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের পাঁচটির তুলনায় বেশি। এর অধিকাংশই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি।
তবে ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে এবং জলপথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এমন দাবিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সমর বিশ্লেষকরা বলছেন, 'এসিমেট্রিক ওয়ারে' প্রবেশ করেছে ইরান। বিশেষকরে, হরমুজকে আশীর্বাদ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ইরান প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে 'ওয়েপন' হিসেবে দেশটি।
অন্যদিকে, প্রণালিটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং নৌ অবরোধও জোরদার করেছে।
/এআই