হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন
দিল্লিতে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণ, চলতি বছর শনাক্ত ১,৩৪৯ রোগী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বর্ষা মৌসুমে বাড়ছে 'এইচ-১ এন-১' বা সোয়াইন ফ্লু'র সংক্রমণ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩শ' ৪৯ জনের শরীরে 'এইচ-১ এন-১' ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি সরকার।
সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। 'এইচ-১ এন-১' ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং নির্দিষ্ট কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে, দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদেরও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে ফ্লু'র মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
গুরগাঁওয়ের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর চিকিৎসক সতীশ কৌল বলেন, গত তিন থেকে চার সপ্তাহে কাশি, সর্দি ও উচ্চ জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পরীক্ষায় 'এইচ-১ এন-১' আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৭ থেকে ১০ জন 'এইচ-১ এন-১' রোগী পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একই সময়ে দিল্লিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ফ্লু'র মতো উপসর্গে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে পোস্ট করছেন। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, অধিকাংশ 'এইচ-১ এন-১' সংক্রমণই মৃদু প্রকৃতির এবং সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে আসে।
'এইচ-১ এন-১'-এর সাধারণ উপসর্গ কী?
সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
* জ্বর বা কাঁপুনি
* দীর্ঘস্থায়ী কাশি
* গলাব্যথা
* শরীর ও পেশিতে ব্যথা
* মাথাব্যথা
* নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
* বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া
এসব উপসর্গ সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও কিছু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষকরে, শ্বাস নিতে কষ্ট, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা কিংবা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনেই কি বাড়ছে সংক্রমণ?
চিকিৎসকেরা 'এইচ-১ এন-১' সংক্রমণের এই আকস্মিক বৃদ্ধির পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। বর্ষা মৌসুমে তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামার কারণে ফ্লুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তবে উপসর্গ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রেই রোগটি মৃদু থাকে। কিন্তু জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
/এআই