রয়টার্সের প্রতিবেদন
২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত ১৫৩ বেসামরিক: পেন্টাগন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা।
আগের বছরের তুলনায়, ২০২৫ সালে, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। পেন্টাগনের হিসাবে, ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও দুজন আহত হয়েছিলেন।
মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত সব বেসামরিক হতাহতের ঘটনাই ঘটেছে ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে, ইয়েমেনে চালানো ওই তিনটি হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মূল্যায়ন করেছে, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’।
তবে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা শুধু ওই তিন হামলাতেই সীমাবদ্ধ কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে আরও ১৫টি ঘটনার মূল্যায়ন চলছিল। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ঘটনার তদন্ত করছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই মার্কিন বাহিনীর অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে, অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পেন্টাগনের এই হিসাবের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর চালানো হামলায় হতাহতের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের (সাউথকম) মূল্যায়নে ২০২৫ সালে তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি, যেখানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’ ছিল।
তবে এসব অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে আলাদা করে বিতর্ক রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব জাহাজকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিটি হামলার পর প্রকাশিত প্রাণহানির তথ্যের হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২শ' জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে মাদক পরিবহনের অভিযোগে জাহাজগুলোতে মার্কিন হামলার বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব অভিযানকে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলেছে, লক্ষ্যবস্তু করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন ও ভয় সৃষ্টিকারী দাবি’।
ফলে পেন্টাগনের নতুন পরিসংখ্যান সামনে আসার পর মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের দায়, অভিযানের বৈধতা এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
/এআই