ন্যাটো সম্মেলন শেষে চুপি চুপি বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায়, গত মাসে, তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় চুপি চুপি বিমান পরিবর্তন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো সম্মেলন শেষে আঙ্কারা ছাড়ার সময় সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনাতেই তাকে নির্ধারিত উড়োজাহাজ থেকে সরিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে অন্য একটি ফ্লাইট ও ভিন্ন বিমানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা মেনে চলাই তার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলি। তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইট, অন্য একটি বিমানে যাই। তাদের কথা আমাকে শুনতেই হয়।’
এর আগে, গত ৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে প্রথমে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে গোপনে তাকে ওই বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশ্ন ওঠে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ব্যবহার করা হলে, ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক ও অন্যান্য আরোহীদের তাহলে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না।
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন, সেটিই বরং ‘আরও বড় ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো পরিকল্পনাটি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও জানতেন না, সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় প্রেসিডেন্টকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’ ছিলেন।
মঙ্গলবার ওহাইওতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, সেখানে কোনো ধরনের হুমকি ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে হুমকির বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি অনুসন্ধান করেননি।
ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন অনেক হুমকির মুখোমুখি হন, যেগুলোর বিষয়ে সাধারণ মানুষ জানেন না।
/এআই