×
Logo

আন্তর্জাতিক

চীনে টাইফুন ‘ডলফিন’: সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ পিএম

চীনে টাইফুন ‘ডলফিন’: সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ

শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে চীনের পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝড়টি আঘাত হানার আগে সাংহাইসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে প্রথমবারের মতো স্থলভাগে আঘাত হানে টাইফুন ডলফিন। সে সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা ৯৪ মাইল। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর ঝড়টি দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানে ওয়েনঝৌ শহরে।

টাইফুনের প্রভাবে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু সাংহাইতেই প্রায় ১ হাজার ৪শ'টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন রুটের পরিবহন চলাচলও।

ডলফিনের কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে সর্বোচ্চ মাত্রার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। তবে ঝড়টি এখন চীনের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আগামী বুধবার পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং প্রদেশ এবং সাংহাইয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ঝড়ের কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ডের কিছু অংশ এবং সাংহাইয়ের দ্য বান্ড এলাকার বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে সাংহাইয়ের পর্যটনপ্রধান সাবেক ফরাসি কনসেশন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিচতলা পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। রাস্তায়ও হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যাওয়ায় মানুষকে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

এদিকে ঝড়ের মধ্যে ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনলিং শহরের ৯ বছর বয়সী এক শিশু সাগরে ভেসে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর দেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ঝেজিয়াংয়ের কোনো কোনো এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঝড় ও বন্যার মধ্যে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সুবিধার্থে ঝেজিয়াংয়ের রাজধানী হাংঝৌতে সব সরকারি পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ফি মওকুফ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝৌতে প্রায় ৯ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। একই প্রদেশের তাইঝৌ শহর থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, উপকূলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে কয়েক ডজন যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল বন্ধ করেছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক শতাধিক নির্মাণ প্রকল্পের কাজও স্থগিত করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ডলফিন প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এর ফলে একটি সাধারণ টাইফুনের তুলনায় ঝড়টির স্থায়িত্ব ছিল তিন গুণেরও বেশি।

এদিকে, টাইফুনকে ঘিরে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দু'জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

আটক ব্যক্তিদের একজন ৬০ বছর বয়সী। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছিলেন। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, ঝড়ের সময় সাংহাইয়ে একজন ব্যক্তি ভবন থেকে পড়ে গেছেন।

অন্য আটক ব্যক্তি ৩২ বছর বয়সী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য ব্যবহারকারীদের প্রকাশ করা ঝড়ের ভিডিও সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিন ফিলিপাইনে আঘাত হানে। পরে উত্তর তাইওয়ান ও জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপেও এর প্রভাব পড়ে। এরপরই শক্তিশালী এই ঝড় চীনের দিকে অগ্রসর হয়।

/এআই 

Logo